banglanewspaper

নিজের সন্তান শাহতা জারাব এরিকের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযেগা করেছেন প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ইসলাম। এমনকি এরশাদের বারিধারার বাসাতেও ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

রবিবার এরশাদ যখন মারা যান তখন আজমীর শরিফ ছিলেন বিদিশা। সাবেক স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে ছুটে আসেন বাংলাদেশে। সাবেক হলেও এরশাদের মৃত্যুতে শোকাহত তিনি। অন্যদিকে সন্তানকে কাছে পাওয়ার আকুতি।

সন্তানকে দেখতে না পেরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিদিশা। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত মা হিসেবে ছেলের জন্য যদি জীবন দিতে হয় আমি তাই করবো।’

দেড় দশক আগে বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ে ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত ঘটনা। এরশাদ-বিদিশার একমাত্র ছেলে শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)। বিয়ের পর বিদিশার জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘটনায় এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ চটে গিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর এরিককে নিয়ে এরশাদ ও বিদিশার যুদ্ধ আদালতে গড়িয়েছিল। পরে আদালতের আদেশে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ।

এরশাদের মৃত্যুর খবর শুনে রবিবার রাতে দেশে ফেরার পর সোমবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে এরশাদের বারিধারা ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’র বাসভবনে সন্তান এরিককে দেখতে যান বিদিশা। কিন্তু তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

বিদিশা জানান, প্রেসিডেন্ট পার্ক’র নিরাপত্তাকর্মী ও দলের কিছু কর্মী তার সাথে এমন আচরণ করেছেন। তিনি তাদের কাছে জানতে চান, আমি কি তবে আমার সন্তানকে দেখতে পারবো না?

তিনি বলেন, আমার ছেলে এরিকের অবস্থা ভালো না। আমি কিছুই চাই না। আমার সন্তানকে দেখতে চাই। সে ভালো নেই। সে একা রয়েছে। কান্নাকাটি করছে। তার সাথে দেখা করতে দেন। এমন অনুরোধ করার পরও তারা আমাকে ঢুকতে দেয়নি।

এদিকে বেলা তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে বিদিশা লিখেন, বাবার মৃত্যুতে আমার ছেলে এরিক এর কান্নায় দেশবাসীও কেঁদেছে। আমি পাগলের মতো ছুটে চলে এসেছি দেশে। কিন্ত দেশে এসে ও বাধার শিকার আমি। কোথায় স্বামীর লাশ কোথায় ছেলে? আমার সাথে এরিককে কথাও বলতে দিচ্ছে না। দেখা করাতো দূরের কথা। এমনিতেই আমার ছেলে প্রতিবন্ধী। এই সময় যেখানে মাকে বেশি প্রয়োজন তখন আমার ছেলেকে নিয়েও রাজনীতি। শেষ পর্যন্ত মা হিসেবে ছেলের জন্য যদি জীবন দিতে হয় আমি তাই করবো।

ট্যাগ: bdnewshour24 এরিক বিদিশা