banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ বাবার বড় আদরের সন্তান ছিলাম । অজানা এক রোগে  ভাগ্যের পরিনতিতে আজ আমি নিঃস্ব। প্রতিবন্ধী হওয়ার পর ১২ বছর ইউনিয়ন পরিষদে সহয়তার জন্য  ঘুরলাম।

ভাগ্যে জুটেনি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারী সহায়তার কার্ড। কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের দরিখোজেখানী নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুর রশীদ (৭০)।

১৭ জুলাই বুধবার সকালে তার নিজ বাড়ীতে কথা হয় এই প্রতিবন্ধীর সাথে।

প্রতিবন্ধী আব্দুর রশীদ জানান, তার বয়স যখন ১০ বছর ছিলো সেসময়  অজানা এক রোগে তার ডান হাত ও ডান পা নিস্তেস হয়ে হয়ে যায়। এগুলো দিয়ে কোন কাজ করতে পারেননা তিনি। জমা-জমি  বিক্রি করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত চিকিৎসা করা হলেও স্বাভাবিক হননি। 

এরপর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েই বাঁচার সংগ্রাম করে আসছেন। এমন অবস্থা নিয়েও ভিক্ষা না করে এক হাতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেতেন রশীদ। এক ছেলে ডিগ্রি কলেজে পড়ে। এ পর্যন্ত তারও খরচও যুগিয়েছেন তিনি। এখন বয়স পড়ে গেছে। তাই আর পারছেন না বলে জানান রশীদ।

আব্দুর রশীদের স্ত্রী জহুরা আক্তার জানান, আমাদের থাকার জন্য একটি মাত্র ঘরটিও ছাউনি ছিদ্র থাকায় বৃষ্টি আসলেই পানিতে ভিজে যায়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পাছে পাছে ১২ বছর ধরে ঘুরলাম। দিবো, দিচ্ছি করে আজ পর্যন্ত কোন সহায়তা করেনি। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকার যদি কোন সহায়তা করতো তাহলে হয়তো আমাদের জীবন বাঁচতো।

গোসিংগা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সাজ্জাদ হোসেন মনির জানান, `আমার এখানে তাদের কেউ আসেনি। এছাড়াও আমি প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছি একটি। কিন্তু এ ওয়ার্ডে ভাতা পাওয়ার যোগ্য একাধিক। তাই গুরুত্বপূর্ণদের আগে দেয়া হয়েছে।'

গোসিংগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার জানান, `আমার ইউনিয়নে অসহায় ও প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বেশী। কিন্ত সরকারী সহয়তা আসে কম। আব্দুর রশীদের বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে রশীদের জন্য সরকারী সহয়তার ব্যবস্থা করা হবে।'

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুঞ্জরুল ইসলাম জানান, `স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারী ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকে। খোঁজ নিয়ে  আব্দুর রশীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।'

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রতিবন্ধী শ্রীপুর