banglanewspaper

ওমর ফারুক, বান্দরবান: বান্দরবানে দুবৃর্ত্তের গুলিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মং মং থোয়াই মার্মা (৫০) নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২২জুলাই) দুপুর ১ঘটিকার সময় রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে বান্দরবান শহরে ফেরার পথে ভাঙ্গামুড়া পাহাড় এলাকা সংলগ্ন তারাছা পাড়ার রাস্তার মোড়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের বাড়ি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের তালুকদার পাড়ায়।

তাঁর প্রতিবেশী ২নং তারাছা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য উসিং মং মার্মা জানান,  রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে মং মং থোয়াই সোমবার সকালে রোয়াংছড়ি যায়। দুপুরে সভা শেষ করে নিজ মোটর সাইকেল নিয়ে বান্দরবান আসার পথে ভাঙ্গামুড়া পাহাড় এলাকায় তারাছা পাড়ার রাস্তার মোরে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনা স্থলে মারা যায় মং মং থোয়াই।

পরে স্থানীয়রা তার লাশ দেখতে পেয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১০টি বিষ্ফোরিত কার্তুজ এসএমজির গুলির খোসা উদ্ধার করে। কিন্তু কে বা কারা এ হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।

জানা গেছে, নিহত আওয়ামী লীগ সভাপতি মং মং থোয়াই এর সাথে সন্ত্রাসীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বছর তিনেক আগে স্থানীয় ইউপি নির্বাচন ও  চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে পাড়া বাসীর সাথে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত দু'জন সশস্ত্র চাঁদা সংগ্রাহককে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। সেই থেকে দ্বন্দ্বের শুরু হয় পাড়া বাসীর সাথে। পাড়াবাসীর নেতৃত্ব দেন তৎসময়েও সভাপতির দায়িত্বে থাকা  মং মং থোয়াই। সেই সময় থেকে নিজ পাড়া ছেড়ে বান্দরবান শহরে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর কারণে সন্ত্রাসীরা তারাছা এলাকা হতে চাঁদা সংগ্রহ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এ কারণে তাকে অনেকবার হুমকিও দেয়া হয়েছিল।  
বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. ইসলাম বেবী বলেন, পাহাড়ের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার লক্ষে জেএসএস সন্ত্রাসীরা একের পর এক গুম, খুন ও হত্যা করে যাচ্ছে। তারা এর আগেও আওয়ামীলীগ নেতাদের হত্যা করেছে। আমি আগেও বলেছি সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার জন্য একটি তালিকা করেছে।
এবং বেছে বেছে তারা একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা করে যাচ্ছে। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যে কোন সময় আমাদের উপরও হামলা হতে পারে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে তবে কে বা কারা হত্যা কান্ডটি ঘটিয়েছে সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪সন্তানের জনক মং মং থোয়াইকে মঙ্গলবার সকালে নিজ পাড়ায় তাকে দাহ করা হবে বলে জানান বড় ছেলে উক্যাসিং মার্মা।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে কুহালং ইউনিয়নের আ’লীগের এক কর্মীকে গুলি হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে ২২মে বান্দরবান পৌর আ’লীগের সহসভাপতি সাবেক পৌর কমিশনার চ থোয়াই মং মার্মাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।

সেই হত্যা মামলায় জেএসএস এর শীর্ষ নেতা কেএসমং সহ ৭নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 বান্দরবান