banglanewspaper

থাইল্যান্ডের চিয়াং মে-তে যেসব নারী থাকেন তাদের গলা বিশ্বের অন্য সব নারীর তুলনায় অনেক লম্বা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ওই এলাকাটিই এখন লম্বা গলা মহিলাদের গ্রাম হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে বাইরে থেকে অনেকে আসেন লম্বা গলার নারীদের দেখতে। এটি থাইল্যান্ডের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। 

এত লম্বা গলার মহিলাদের দেখা বিশ্বের আর কোথাও মেলে না। তবে এ লম্বা গলার পেতে তাদেরকে কষ্টও করতে হয়। 

গলা অদ্ভুত রকমের লম্বা হওয়ায় অনেকে আবার এই মহিলাদের ‘জিরাফ ওম্যান’ বা ‘ড্রাগন ওম্যান’ও বলে থাকেন। এ গ্রামে মূলত কায়েন সম্প্রদায় মানুষই থাকেন। জন্ম থেকেই এ সম্প্রদায়ের মহিলাদের ‘জিরাফ’-এর মতো লম্বা গলা হয় না। বংশপরম্পরায় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষা করতেই আসলে নিজেদের গলা লম্বা করে নেন এরা নিজেই।

এ জন্য গলায় তারা পেঁচানো রিং পরেন। গ্রামে কোনও কায়েন কন্যা জন্ম হলে, তার ৫ বছর বয়স থেকেই গলায় সোনালি রঙের পেঁটানো রিং পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবছর রিংঙের প্যাঁচ বাড়তে থাকে। এ ভাবে একটার পর একটা রিং যোগ করা হয় ২১ বছর পর্যন্ত।

এই ২১ বছরে একবারের জন্যও কিন্তু কায়েন মহিলারা ওই রিং গলা থেকে খোলেন না। ২১ বছর পর যখন এই রিং তাঁদের গলা থেকে খোলা হয়, গলায় রিংয়ের কালো দাগ বসে যায়। গলাটা অদ্ভুত রকমের সরু আর লম্বা দেখায়।

লম্বা গলা কায়েন সম্প্রদায়ের কাছে গর্বের বিষয়। যার গলা যত লম্বা, কায়েনদের কাছে তিনিই তত সুন্দরী।

কায়েন সম্প্রদায়ের আসল বসতি মায়ানমারের কায়াহ জেলার লয়কাওয়ে। মায়ানমারে সেনা-পুলিশের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তারা থাইল্যান্ডের উত্তরে উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেন। উদ্বাস্তু শিবিরই ক্রমে কারেন সম্প্রদায়ের নাম অনুসারে কারেন গ্রাম হিসাবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে।

থাইল্যান্ড সরকার যখন কায়েনদের লম্বা গলার কথা শোনে, দেশের পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতির পরিকল্পনা করে তাদের ভিসা দিয়ে দেয়। তার পর থেকে কায়েনরা ওই গ্রামেই স্থায়ী ভাবে থাকতে শুরু করেন।

সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটক এই গ্রামে ভিড় জমান কায়েনদের দেখতে। গ্রামটা এখন লম্বা গলা মহিলাদের গ্রাম হিসেবেই সবাই চেনে। পর্যটকদের নিজেদের বানানো জিনিস বেঁচে উপার্জনও করতে শুরু করেছেন এই মহিলারা। ফলে তারা আর্থিক ভাবে অনেকটাই সাবলম্বী হয়েছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 জিরাফ লম্বা গলা