banglanewspaper

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের জমি চাইছে ভারত। বিমানবন্দরটি বাংলাদেশের সীমান্তে হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় ১ কিলোমিটার জমি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা টুয়েন্টি ফোর সেভেন।

কলকাতার ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে যে জমি দরকার সেটি পড়ছে বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কী জমি দেবে? এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ১৯৪২ সালে আগরতলা বিমানবন্দরটি তৈরি করেন। তখনও ভারত অভিন্ন ছিল। পরে দেশ ভাগ হলে ওই বিমানবন্দরটি পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে সঙ্গে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। তখন থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখার খুব কাছে রয়েছে আগরতলা বিমানবন্দর।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে আগরতলা বিমানবন্দরের নতুন নামকরণ করা হয় মহারাজ বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর বিমানবন্দর। সেই সঙ্গে শুরু হয় এই এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মান দেয়ার উদ্যোগ। এরপরই ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়ে প্রস্তাব করা হয়। তবে কোন পদ্ধতিতে এই জমি নেয়া সম্ভব তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের চাহিদা মতো জমি পড়ছে আখাউড়া উপজেলায়।  আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য সেখানকার প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত জমি দরকার।

এদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ভারতের পক্ষ এই ধরনের একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে সরকার এই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঢাকা সফরে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে থাকা অভিন্ন বিমানবন্দরের কথাও উঠে এসেছে। ইউরোপ, মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এমন বিমানবন্দর রয়েছে। এক্ষেত্রে ১৯২০ সালে নির্মিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরের কথা বলা যেতে পারে। এটি একইসঙ্গে সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্স সরকার ব্যবহার করে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে এমন অভিন্ন কিছু বিমানবন্দর রয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ভারত