banglanewspaper

তীব্র গরমে স্বস্তির আশায় ডাবে গলা ভেজানোর মানুষের অভাব নেই। চাহিদা তুঙ্গে, তাই নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই চোখে পড়ে ডাব বিক্রেতাদের। তারা ডাব কাটছেন, আর পানি খাওয়ার পর ভেতরের শাঁস বের করতে করছেন দুই টুকরো। শেষে খোসাগুলো ফেলে রাখছেন পাশে। 

এখান থেকে খোসাগুলো নিরাপদ কোথাও রেখে যান না বিক্রেতারা। কেউ কেউ ফেলে রাখেন রাস্তার পাশেই। কেউ বা নিয়ে যান ডাস্টবিনে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেখান থেকে নিয়ে যান। তবে এর মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় ডাবের খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলোতে।

গত বুধবার ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের পাশের সড়কে এক ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা বিক্রি শেষ করে তিন বস্তা ডাবের খোসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু আরও এক বস্তার কাছাকাছি খোসা সড়কে ফেলে গেছেন। তার ভাষ্য, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা অন্যান্য ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে এটা নিয়ে যাবেন। 

দুই দিন পর শুক্রবার একই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেই খোসা তখনো সেখানেই পড়ে আছে। বিক্রেতা সুমনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আপনারে এত তদারকির দায়িত্ব দিছে কে? যাইয়া নিজের কাজ করেন। যাদের এটা ফেলার দায়িত্ব তারাই ফেলবে।’

গ্রিন রোডের স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভ্রাম্যমাণ ডাব ব্যবসায়ীরা বিক্রি শেষে যেখানে-সেখানে ডাবের খোসা ফেলেন। বিক্রেতারা সারা দিন বেচাবিক্রির পর ময়লা-আবর্জনা রাতের অন্ধকারে ফেলে দিয়ে যান।

ধানমন্ডি এলাকায় কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ডাববিক্রেতা ডাবের খোসা ফেলার কথা স্বীকার করে বলেন, তাদের মতো ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের আবর্জনা ফেলার জন্য আশপাশে কোনো ডাস্টবিন নেই। তাই বেচাবিক্রি শেষে তারা যেখানে-সেখানে ময়লাগুলো ফেলেন। 

তবে মো. নিজাম নামে একজন বলেন, ‘আমি ডাবের খোসা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে দেয়া দিই। আর হেরা না নিলে নিজে গিয়া ময়লা ফেলার জায়গায় রাইখ্যা আসি।’

যারা বাসাবাড়ির জন্য ডাব নিয়ে যান তারাও ধারের কাছে সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার জায়গা না পেয়ে আবাসিক এলাকাতে দুই সারি বহুতল ভবনে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বা প্যাসেজে ডাবের খোসা ফেলে দেন। আরও এসব খোসা দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকে। আর বৃষ্টির সময় এসব ডাবের খোসায় পানি জমে। আর জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। 

সরেজমিনে ধানমন্ডির বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মূল সড়কের পাশে, ড্রেনের মধ্যে, বিভিন্ন বাসা-বাড়ির অলিগলীতেসহ দুই ভবনের মাঝখানে (প্যাসেজে) নতুন ও পুরোনো অনেক ডাবের খোসা পড়ে আছে।

কাঁঠালবাগানে সড়ক পরিষ্কার করার সময় আমেনা নামের এক সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পরিত্যক্ত ডাবের খোসা তারা সড়ক বা সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার জায়গা থেকে নিয়ে সেকেন্ডারি ট্রান্সপার স্টেশনে ফেলে দিয়ে যান।

সাধারণত ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস ইজিপ্ট মশার জীবনচক্র ধরলে দেখা যায়, এরা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। অর্থাৎ স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ময়লা–দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দ নয়। বাড়ির ভেতরেও বিভিন্ন উৎসে এর জন্ম হয়। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের জলাধার, লিফটের নিচে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র থেকে বের হওয়ার পর জমে থাকা পানি, পলিথিনের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, ফুলের টব, টায়ার-টিউবসহ যেসব জায়গায় পানি জমে, সেগুলোই এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

ডাবের খোসার মাধ্যমে ডেঙ্গুর এডিস মশার বিস্তার হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা খোসার মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। আর সেই পানিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটায়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতাদের অনেকে রাতের আধারে সড়কে ডাবের খোসা ফেলে চলে যায়। আবার বাসাবাড়ির কথা যদি বলেন, এমন এমন জায়গায় তারা খোসা বা ময়লা ফেলে সেটা পরিস্কার করা সম্ভবও না। তাছাড়া আমাদের লোকবলওতো এত বেশি নেই যে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলে পরিস্কার করে দিয়ে আসবে।’তীব্র গরমে স্বস্তির আশায় ডাবে গলা ভেজানোর মানুষের অভাব নেই।

ঢাকা টাইমস

ট্যাগ: bdnewshur24 ডাবের খোসা