banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি : ক্ষমতাসীন দল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) এর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সড়ক খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন করা হচ্ছে। দেশের চিরায়িত যানজট নিরসনে নেয়া হয়েছে মেঘা প্রকল্প। বেশকিছু জায়গায় যানজট নিরসনে ও জনগণের স্বস্তিময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সফলতার মুখও দেখেছে সড়ক বিভাগ। তবে রাজধানীর প্রবেশ মুখ ও শিল্পা ল সাভার-আশুলিয়ায় মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে দেদারছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ময়লার স্তুপ। এতে করে প্রায় সময়ই যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। সেই সাথে সড়কের সৌন্দর্য্য নষ্টের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিরও। 

‘আর কয়েকদিন পরই ঈদে নাড়ীর টানে ঘরে ফিরতে শুরু করবে কর্মজীবি লাখো মানুষ। উত্তরা লের প্রায় ১৭টি জেলার প্রায় ৩০টি রুটের পরিবহন চলাচল করে সাভার-আশুলিয়া-কালিয়াকৈর হয়ে। ফলে এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ময়লার স্তুপের কারণে যানজটের শঙ্কা থেকেই যায়। তাছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংস্কার কাজের জন্য ঈদে ঘরেফেরা মানুষদের বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।’ 

দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাভারের (ঢাকা-আরিচা, আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-ডিইপিজেড ও নবীনগর-চন্দ্রা) এই তিন মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা ফেলা হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ময়লার স্তুপ মহাসড়কের উপরে উঠে এসেছে। এতে করে যানচলাচলে সমস্যা ও পথচারীদের স্বস্তিতে পথ চলা বিঘিœত হচ্ছে। সব মিলিয়ে মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার ফেলার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়েছে। 

মহাসড়কের উপর ময়লার স্তুপ দিন দিন বাড়ার ও অপসারণ না করার কারণ হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (মানিকগঞ্জ) এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার অবহেলা ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার সুযোগ করে দেয়াকেই দেখছেন সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে মহাসড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে দিন কিংবা রাত সবসময়ই ময়লাবাহী ভ্যান, ট্রাকযোগে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গাতে ময়লা ফেলার কারণে স্তুপ আকার ধারণ করেছে। সড়কের পাশ থেকে মহাসড়কের উপর পর্যন্ত উঠে এসেছে ময়লা আবর্জনা। 

সাভারের (ঢাকা-আরিচা) মহাসড়কের সাভারের জোরপোল ব্রিজ, ব্যাংক টাউন, উলাইল, গেন্ডা, রাজখাল, সিএমবি, প্রান্তিক, আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-ডিইপিজেড মহাসড়কের কামাড়পাড়া, বেরিবাধ, আশুলিয়া বাজার, জিরাবো, নরসিংপুর, জামগড়া, বাইপাল ব্রিজ, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী, শ্রীপুর, চক্রবর্তী, জিরানী, কবিরপুর, বাড়ইপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেও ময়লা-আবর্জনা মহাসড়ক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দূর্গন্ধ ছড়িয়ে যায় মহাসড়ক থেকে আশপাশের এলাকাগুলোতে। ফলে অস্বাভাবিক মাত্রায় যানজট ও জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়ে।

ছাবিকুন নাহার দোলন নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, প্রতিদিন নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার ফেলার কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হওয়ার ফলে চলাচলে সমস্যা হয়। দূর্গন্ধের কারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ও পরিবেশের উপর মারাত্মক হুমকি স্বরুপ ময়লা-আবর্জনা বলেও তিনি জানান। সেই সাথে মহাসড়কে যাতে কোন ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট তিনি জোর দাবি জানান।  

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় দেখা গেছে, সওজ এর পক্ষ থেকে মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে ময়লা ফেলা নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে অথচ যেখানে সাইনবোর্ড আছে সেখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সবচেয়ে বেশি। তাহলে প্রশাসনের এমন লোক দেখানো সাইনবোর্ড কি ময়লা ফেলানোর গোপন নির্দেশ প্রদান করে? এমনটাই অনেকে প্রশ্ন করেছেন এই প্রতিবেদককে।

বাড়ইপাড়া এলাকার ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক সোহেল রানা জানান, মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে তাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার দূর্গন্ধে বসে থাকা যায় না। আগের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এতে করে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। আর্থিক ভাবে ক্ষতির পরিমাণটা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে এবং দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের তাগিদ জানিয়েছেন তিনি।

মহাসড়কের পাশের যে সব স্থানে ময়লার স্তুপ আকার ধারণ করেছে সে সব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সাভার। সাভারে রয়েছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপতাল, রয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। ফলে লাখো মানুষের বসবাস ঢাকার উপশহর সাভারে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই সাভার পেীরসভা গঠন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সাভারবাসীর প্রধান সমস্যা বর্জ্য ফেলার নেই তেমন কোন নির্দিষ্ট জায়গা। ফলে সাভার-আশুলিয়ার বিপুল সংখ্যক মানুষের নিয়মিত ব্যবহৃত বর্জ্য (প্রকারভেদে-ময়লা ও আবর্জনা) ফেলার শেষ ঠিকানা এখন  মহাসড়কগুলো!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলানোর রয়েছে বড় একটি সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেটের মূলে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ-সওজ (মানিকগঞ্জ) এর কিছু অসাধু কর্তাব্যাক্তি ও যে সব এলাকায় ময়লা ফেলা হয় সেসব এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলানোর জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় গ্রুপ তৈরি করেছে। প্রতিটি গ্রুপের কাজই হচ্ছে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করা এবং এর বিপরীতে মাসিক টাকা উঠানো। পরবর্তীতে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা কতটি পরিবহনযোগে (ভ্যান,ট্রাক,রিকশা ইত্যাদি) ভাগ করে মহাসড়কের কোন পয়েন্টে ফেলা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। পরে প্রতিটি গাড়ির জন্য মাসিক ৬-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা আদায় করা হয়। আর এসবের নীট টাকা যোগ হয় সওজ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও শেল্টার দেয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের পকেটে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার জন্য ভ্যান, ভটভটি, নসিমন ও কিশান গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ২২৮ টি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি সাভার ও আশুলিয়া অ লের বিভিন্ন শিল্পা ল ও আবাসিক এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে সরাসরি মহাসড়কের পাশে ফেলছে। এ কাজটি করার জন্য বিভিন্ন বাসা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা আদায় করছে সড়ক ও জনপথের মনোনিত শ্রমিক শিপন। শিপনের নেতৃত্বেই মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। 

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী এলাকায় ময়লার স্তুপে দীর্ঘ ৫বছর ধরে শূকর চড়িয়ে থাকেন কিশোরগঞ্জের তাহের উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ। মঙ্গলবার সকালে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এখানে শূকড় চরাচ্ছি আমি। এখানে দিনের তুলনায় রাতের আধারে ট্রাক, ভ্যান, টমটম সহ নানা যানবাহনের মাধ্যমে ময়লা আবর্জনা ফেলে রেখে যায়। তবে মাঝে মধ্যে সিএন্ডবি’র লোকজন গাড়ী ধরে আটকিয়ে রাখে। আবার টাকা দিলে ছেড়ে দেয়। 
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় দেখা গেছে, সওজ এর পক্ষ থেকে মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে ময়লা ফেলা নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে অথচ যেখানে সাইনবোর্ড আছে সেখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সবচেয়ে বেশি। তাহলে প্রশাসনের এমন লোক দেখানো সাইনবোর্ড কি ময়লা ফেলানোর গোপন নির্দেশ প্রদান করে? এমনটাই অনেকে প্রশ্ন করেছেন এই প্রতিবেদককে।

মহাসড়কের পাশের যে সব স্থানে ময়লার স্তুপ আকার ধারণ করেছে সে সব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সাভার। সাভারে রয়েছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপতাল, রয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। ফলে লাখো মানুষের বসবাস ঢাকার উপশহর সাভারে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই সাভার পৌরসভা গঠন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সাভারবাসীর প্রধান সমস্যা বর্জ্য ফেলার নেই কোন নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা। ফলে সাভার-আশুলিয়ার বিপুল সংখ্যক মানুষের নিয়মিত ব্যবহৃত বর্জ্য (প্রকারভেদে-ময়লা ও আবর্জনা) ফেলার শেষ ঠিকানা এখন  মহাসড়কগুলো!

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মনোনিত শ্রমিক শিপনের সাথে মোঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো সব মিথ্যা কথা। আপনাদের কেউ ভুল বলেছে। 
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মানিকগঞ্জ এর উপ-বিভাগ (নয়ারহাট) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আতিকুল্লাহ ভুইয়া জানান, ‘‘মহাসড়কের পাশে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও সাভার পৌরসভার ময়লাগুলো মহাসড়কের পাশে বেশী ফেলা হচ্ছে। ময়লা যাতে মহাসড়কের পাশে ফেলতে না পারে সে জন্য ওই সব স্থানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও মানুষ ময়লা ফেলছে।’’

তিনি জানান, এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার গাড়ী আটকিয়ে থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেকের কাছ থেকে আবার মুচলেকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

ময়লা ফেলায় আমাদের কোন স্টাফ জড়িত থাকলে ও এর প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 

ট্যাগ: bdnewshour যানজট সাভার আশুলিয়া