banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরের উলাডাবের মো. সুজন ও তার পরিবারের আদর যত্নে লালিত পালিত খুব শান্ত স্বভাবের দেশী জাতের বড় ষার গরু বাদশা। উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের হিসেব (খএক্ষ্ম/৬৬০) মতে, বাদশার ওজন প্রায় ২২ মন হবে।

খুবই শান্ত ও রোগ মুক্ত এবং স্বাস্থ ঝুঁকি মুক্ত এমন দেশী জাতের ষার গরু বাদশাকে দেখতে প্রতিদিন শত শত কৈতুহূলী জনসাধারন ভিড় করে সুজনরে বাড়িতে। 
সুজন বলেন, আমর বাবা ৩০ বছর যাবৎ গরু পালন করে আসছেন। গরুর ফিট খাবার খাওয়ানো সাধ্য নেই আমাদের। ১ বছর আগে দুই দাতের বাদশাকে ক্রয় করে নাগরপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ দপ্তরের আকন্দ স্যারের যোগাযোগ করি এবং তার দেয়া খাদ্য তালিকা মতই চলে বাদশার যত্নে। সেই থেকে শুরু বাদশার খাদ্য তালিকা।

এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাশ, গাছের পাতা, খর, ভূষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, সরিষা/ সয়াবিনের খৈল, নালি, চাউলের কুরা, লবন, পরিমান মত পানি। তবে মাঝে মাঝে রুচি বাড়ানোর জন্য আমি ফল দেই। নিয়মিত গোসল করানো, পরিস্কার ঘরে রাখা, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা, প্রতিদিন ৬ কিলোমিটার হাটতে নেয়া, রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়া ও কৃমির ঔষধ খাওয়ানো এ সকল বিষয় স্যারের পরামর্শেই আজ বাদশা ২২মন।

গরু মোটা তাজা করনের ঔষধ ও ইনজেকসন বিষয়ে খামারী বলেন, গরুর ওজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমান মত সম্পূর্ন প্রাকৃতিক খাবারেই লালিত পালিত। বিজ্ঞানসন্মত সঠিক পরিচর্যায় ৪ দাঁতের ৪ বছরের বাদশা প্রাকৃতিক খাদ্যেই আজ ২২ মন ওজনের হয়েছে। খামারের নম্বর ০১৭০৯৭৯৭২৩১ দর্শক ছামাদ বলেন, বাদশা সত্যিই দৃষ্টি নন্দন এবং প্রশংসার দাবীদার। কারন, কোন প্রকার বিষাক্ত ঔষধ ব্যবহার না করে এমন দেশীয় জাতের গরু বানানো সম্ভব নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

নাগরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের (ভি.এস) ডা. মো. এটি এম ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ বলেন, আমাদের উপজেলা লেভেলে বড় গরুর চাহিদা মেটাতে সুজনের উদ্যোগ সত্যিই প্রসংশার দাবীদার। তিনি বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমাদের দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিরাপদ মাংস উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন। গরু মোটা তাজা করনের ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার না করে এবং বিজ্ঞান সন্মত নিবির পর্যবেক্ষন, প্রাকৃতিক সুষম খাদ্য ও সুজনের প্রচেষ্টায় খোকা বাবু আজ প্রায় ২২ মন হয়েছে। তার কাজের মূল্যায়ন হলে তিনি সহ অনেকেই উৎসাহিত হবে সল্প খরচে গরু পালনে। এতে করে নিরাপদ মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগ: bdnewshour নাগরপুর