banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ দেয়ালের কোনো স্থানে এক ঘষা আবার কোনো স্থানে ঘষাঘষি  ছাড়াই একটান দিয়ে করা হচ্ছে রং।

এদিকে আবার নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে টাইলস্ বসানোর কয়েকদিনের মাথায় এগুলো উঠে যাচ্ছে। একাধিকবার কর্তৃপক্ষের বাধা থাকলেও তার তোয়াক্কা না করেই দেদারসে শেষের দিকে চলে যাচ্ছে  গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেরামতের কাজ।

৫ আগস্ট সোমবার  দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালের মেরামত কাজের এমন অবস্থা চোখে পড়ে । 

বর্তমান সরকারের চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষে সরকারী অর্থায়নে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল ফটক নির্মাণসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকায় হাসপাতালের পুরাতন ভবনের রিপেয়ারের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অমনি এন্টারপ্রাইজসহ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান।

এসব কাজের মধ্যে রয়েছে, পুরাতন ফটক ভেঙে নতুন করে নির্মাণ। পুরাতন  মূল ভবনের গ্রীল সরিয়ে থাই জানালা স্থাপন, ভবনের দেয়াল পরিপূর্ণ ঘষাঘষি করে রং লাগানো ও বিভিন্ন ফ্লোরে টাইলস্ বসানো। 

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত মে মাসে শুরু হওয়া রিপেয়ারিং কাজ মাত্র ৮-১০ জন শ্রমীক দিয়ে চালানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্বল্প শ্রমীক দিয়ে ধীর গতিতে মেরামতের কাজ করানোর ফলে ভোগান্তিতে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

এর সাথে আবার  দুর্বল মানের উপকরণ ব্যবহার করার ফলে এক দিকে রং লাগিয়ে শেষ হচ্ছে আবার অন্যদিকে সে রং পরদ আকারে ধসে পড়ছে। শ্রমীকদের কিছু বললে তারা এগুলো ঠিকাদার জানে বলে জানিয়ে দেয়। আর ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে বললে তিনি আমাদের কথা শুনার সময় নাই বলে জানায়।

পৌর যুবলীগ নেতা নুরে আলম মোল্লা জানান, হাসপাতালের মূল ফটক নির্মাণের প্রথম দিকে নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিলো। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই কাজে ভালো মানের উপকরণ দেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। পরে ইট পরিবর্তন করে পূনরায় কাজ চালু করেছে ঠিকাদার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মইনুল হক খান জানান, আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য। আমার অনুপস্থিতিতে কাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফতেহ আকরামকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি নিয়মিত কাজ পর্যবেক্ষন করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার( আরএমও)  ডাঃ ফতেহ আকরাম জানান, টাইলস লাগানোর পরপরই বিভিন্ন স্থানে এগুলো উঠে যাচ্ছে। এছাড়াও দেয়ালে ঘষামাজা করে রং লাগানোর কথা থাকলেও কোনমতে সামান্য  ঘষাঘষি করেই রং লাগানো হচ্ছে।

এদিকে মূল ফটকে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার কারনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবনে একাধিকবার কাজে বাধা দেয়ার পরও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান "অমনি এন্টারপ্রাইজ" -এর স্বত্বাধিকারীর  প্রতিনিধি ফজলুল করিম জানান, আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালের প্রধান সহকারী জালাল উদ্দিন নিয়মিত আমাদের কাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তিনি তো কাজ খারাপ হচ্ছে এমন কোন কথা আমাকে বলেনি।

কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে  ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান "এমনি এন্টারপ্রাইজ" -এর স্বত্বাধিকারী হাসিবুর রহমান নাছিম মুঠোফোনে জানান, আপনার কোন বক্তব্য জানার থাকলে অফিসে এসে কথা বলেন। ফোনে এ বিষয়ে আপনাকে বক্তব্য দিতে আমি বাধ্য নই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফিন জানান, হাসপাতালের কাজের মান সম্পর্কে আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া  গ্রহন করা হবে।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ খায়রুজ্জামান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেরামতের কাজ বুঝে নিবে। সেখানের কাজ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে হলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 রং টাইলস উঠে যাচ্ছে