banglanewspaper

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী: রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশনের দাবীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় অবস্থান করার ফলে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার সব ধরণের কাজ-কর্ম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ৯ দিন ধরে পৌরসভা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।

যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘোড়াশাল পৌরবাসী। ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে অপসারণ করা হচ্ছে না পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা।

এতে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে ময়লার স্তুপের দুর্গন্ধে নাকাল পৌরবাসী। পৌর এলাকার অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বন্ধ রয়েছে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ।

এ ছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে রাতে জ্বলছে না বৈদ্যুতিক বাতি। এদিকে পৌরসভার নাগরিক সনদ, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত মানুষ।

পৌর এলাকার আরিফ খন্দকার জানান, আমাদের এলাকায় টানা কয়েক দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনগুলো পরিস্কার না করার কারণে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে এলাকার জনগণ। সেবা নিতে আসা রফিক উদ্দিন বলেন, আমি নাগরিক সনদ নিতে গিয়ে ছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। নাগরিক সনদ না পাওয়ায় চাকুরির আবেদন করতে পারিনি।

আগামী ২ দিনের মধ্যে পৌর কার্যালয় না খুললে আমার আর চাকরির আবেদন করা হবে না। এই তালা কবে খুলবে তা কেউ বলতে পারছে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোশিয়েশন ঘোড়াশাল পৌর শাখার সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, এ্যাসোশিয়েশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরবো না।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোশিয়েশন ঢাকা বিভাগের সভাপতি ও ঘোড়াশাল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার সাদাৎ হোসেন ভূইয়া জানান, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দেয় সরকার, আর বেতন দেয় পৌরসভা। এভাবে চলতে পারে না।

তিনি আরও জানান, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরিফুল হক জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে নাগরিক সুবিধা ও রাজস্ব আদায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নগর উন্নয়ন এর কাজ থমকে গেছে। দেশের অন্যান্য পৌরসভাগুলোর মধ্যে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ঘোড়াশাল পৌরসভা অন্যতম।

তারপরও প্রতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তাই আমি মনে করি, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা দিলে পৌর এলাকা গুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ঘোড়াশাল পৌরসভা