banglanewspaper

ভয়াবহ আকার ধারণ করা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যখন হাজার হাজার রোগী হাসপাতালমুখি তখন সেই হাসপাতালেই মিলল ডেঙ্গুর প্রধান উৎপত্তিস্থল এডিসবাহী মশার লার্ভা। সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পাওয়া গেছে এই চিত্র। এডিসের লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।   

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার এডিসের লার্ভা শনাক্ত এবং তা ধ্বংসে অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

ডিএনসিসির উত্তরা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম ফকির উত্তরার ‘ল্যাবএইড’ হাসপাতালে এডিসের বিপুল পরিমাণ লার্ভা দেখতে পান। ফলে হাসপাতালটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এরপর ‘ক্রিসেন্ট’ হাসপাতালে গিয়েও একই চিত্র দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট। হাসপাতালটিকে জরিমানা করা হয়েছে দুই লাখ টাকা।

এছাড়া জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাওয়ার কারণে উত্তরা ‘কিং ফিশার’ নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা এবং একটি ফুলের দোকানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এডিসের লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় জরিমানা গুণেছে মিরপুরের ‘ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল’। সেখানেও জমা পানিতে পাওয়া যায় এডিসের বিপুল পরিমাণ লার্ভা।

ডিএনসিসির মিরপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শফিউল আজম ভ্রাম্যমাণ আলাদত পরিচালনা করে হাসপাতালটিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

একই কারণে একটি টায়ারের দোকানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে অভিজাত এলাকা গুলশানেও। ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হামিদ মিয়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘ল্যাভেন্ডার’-এ এসি ও ফ্রিজের জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রচুর পরিমাণ লার্ভা খুঁজে পান। এসময় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ডিএনসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নাভানা রিয়েল এস্টেটকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত ‘খাজানা মিঠাই’, ‘দিগন্ত মানি এক্সচেঞ্জ’ ও ‘ব্রেড অ্যান্ড বিয়ন্ড’ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার রান্নার দায়ে ‘খুশবু বিরানী’ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে বলে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour গুলশান ল্যাবএইড