banglanewspaper

ভারতের উপকূলে সৃষ্ট নিম্নচাপটি মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে আসায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হয়ে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হবে। লঘুচাপ থাকাকালীন সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘এটি মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে আসায় দুর্বল হয়ে গেছে। তবে এটি লঘুচাপে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হবে। একদিকে বর্ষা ঋতুতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে, অন্যদিকে এই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বেশি। এ কারণে সাগরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।’

আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় বলা হয়, ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ভারতের ঝাড়খণ্ডের আশেপাশের এলাকায় স্থল মৌসুমি নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি  উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বলা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour ভারত বৃষ্টি