banglanewspaper

মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ ঢাকায় ৬০ এর দশকেও ছিল বলে জানিয়েছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ। তবে তখন এই রোগ পরীক্ষা এবং চিকিৎসার বিষয়টি জানা ছিল না। আর চিকিৎসকরা এর নাম দিয়েছিলেন ‘ঢাকা ফিভার’।

কয়েক দশক ধরে এই পরিস্থিতি চলছিল দেশে। তবে ২০০০ সালের পর রোগটি শনাক্ত হয় ডেঙ্গু হিসেবে। আর নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে এই রোগটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সেই সময় আক্রান্তরা যে আসলে ডেঙ্গুর রোগী ছিলেন, সেটি পরে বুঝতে পেরেছেন তারা।

চিকিৎসক আবদুল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে ডেঙ্গু ছিল, আছে এখনও। আর আমাদের দেশেও এটা নতুন না। ১৯৬৪ সালে ঢাকাতেও এই জ¦র হয়। সেই সময় তো কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিস্টেম ছিল না। তৎকালীন চিকিৎসাকরা কোন ক্লু পাইনি। পরে নাম দেয় ঢাকা ফিভার। পরে দেখা গেল আসলেই ওটা ডেঙ্গু জ¦র ছিল।’

‘বেশি প্রকট দেখা যায় ২০০০ সালের দিকে। এই বারের মত অবস্থা সেবারও ছিল। প্রচুর ডেঙ্গু জ্বর ২০০০ সালে হ্যান্ডেল করেছি। তখন অবস্থা কিন্তু আরও ভয়াবহ ছিল। রোগীরা তো এমন অ্যাটাকে পেনিক হয়ে গেছে। ডাক্তারদেরও অতটা অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরাও নতুন রোগী পাচ্ছি। এই বার একটু ভয়াবহতা আছে।’

‘এটা তো মূলত হয় মশার কামড়ে। তাই মশা যত বৃদ্ধি পাবে রোগীর সংখ্যাও তত বাড়বে। ২০০০ সালে যত যে ঢাকা ছিল উনিশ বছর পর ওই ঢাকা নেই। সুন্দর সুন্দর যত ভবন পাবে, সেখানে তাদের বংশবিস্তার বাড়বে।’

এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জানান, ডেঙ্গুর চারটা সিরোটাইপ আছে, ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর। যাদের ওয়ান হয় বা প্রথম বার হয় তারা অতটা জটিল রোগী না। এটা হয়ত তার হয়ে গেছে কিন্তু নিজেও জানে না। জ¦র একটু আকটু হয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা মনে করেছে। সেকেন্ড, থার্ড বা ফোর্থ টাইম যাদের হয় তাদের অবস্থা জটিল হয়।

যারা যারা মারা গেছে তাদের সিংহভাগই আগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানান ডাক্তার আবদুল্লাহ। বলেন, ‘মনে হচ্ছে এবার থ্রি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। এটার সংখ্যাটা বেশি এবার। এটা সিরিয়াস বলেই এবার মৃত্যুর সংখ্যাটা বেশি।’

এবার ডেঙ্গুর ধরণটা পাল্টে গেছে বলেও জানান অধ্যাপক আবদুল্লাহ। বলেন, ‘প্রতিবার যে লক্ষণগুলো থাকে সেগুলো আমরা পাচ্ছি না। যেমন এমনিতে ডেঙ্গু হলে রোগীর সর্বোচ্চ তামপাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫, জোড়ায় জোড়ায় ব্যাথা, মাংসপেশী, মাথা, চোখের পেছনে ব্যাথা হয়। চার থেকে পাঁচ দিন থাকে জ¦র। ওই সময় গায়ে লাল লাল র‌্যাস ওঠে। এই চার-পাঁচ দিন পর শরীরে রক্তের প্লাটিলেট কমে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। দাঁত ব্রাশ করার সময়, নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, বমির সঙ্গে হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড ছাড়াও রক্তক্ষরণ পারে। এগুলো স্বাভাবিক লক্ষণ ছিল।’

‘কিন্তু এবার জ¦র কম, পেইন নেই। এক দুইদিনের মধ্যে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। রক্তক্ষরণের ঝুঁকি হচ্ছে। সেখান থেকে অনেক রোগীর পালস নেই, ব্লাডপ্রেসার নেই, প্রসাব নেই, রোগী অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা শকে চলে যাচ্ছে। এটায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এটা হওয়াতে কিছু লোকের মৃত্যু হয়ে গেছে। এবার রোগীরা বুঝতে পারছে না তাদের রোগের সিম্পটম। অথবা ডাক্তারও কেউ কেউ মিস করছে।’  

ট্যাগ: bdnewshour24 ঢাকা ফিভার