banglanewspaper

বিতর্কিত কাশ্মির ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনও সময় দেশ দুটির মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ-সংঘাত বেঁধে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কাশ্মিরী মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান সরকার। আর কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদী সরকার চাইছে, ধীরে ধীরে মুসলিমদের সংখ্যা কমিয়ে কাশ্মিরে হিন্দুদের আধিক্য বাড়াতে। এ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ব মোড়লেরা। কেউ ভারতকে সমর্থন দিচ্ছেন, আবার কেউ পাকিস্তানকে। 

কাশ্মির নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে কার অবস্থান কী- এ প্রতিবেদনে সেদিকেই আলোকপাত করা হলো: 

যুক্তরাষ্ট্র: কাশ্মিরে চলমান সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আনছে না বলে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস। গেল শুক্রবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে নতুন সৃষ্টি হওয়া সংকট যুক্তরাষ্ট্র ‘নিবিড়ভাবে নজর রাখছে’ বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে কাশ্মীরকে ‘অবশ্যই একটি অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন অর্টাগাস। 

অর্টাগাস বলেন, ‘কাশ্মীর ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘গভীরভাবে জড়িত’ যুক্তরাষ্ট্র সরকার। গত সপ্তাহের শুরুতে ভারত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর সবার আগেই আমেরিকার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান। জম্মু-কাশ্মিরে ভারত কারফিউ জারি করেছে তাও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে।’ সম্প্রতি ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথাও উল্লেখ করেন অর্টাগাস। 

রাশিয়া: জম্মু-কাশ্মির নিয়ে ভারতকে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির বন্ধুদেশ রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান মেনেই জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের অবস্থান বদল করেছে ভারত। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশকে শান্তি রক্ষার বার্তাও পাঠানো হয়েছে মস্কো থেকে।  

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধান সম্মতভাবেই ভারত জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করেছে ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করেছে।

এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করি যে এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার পরিস্থিতির অবনতি হবে না। রাশিয়া সব সময়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সুষ্ঠু সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান করে আসছে।’ লাহোর চুক্তি ও শিমলা চুক্তির কথাও বেশ গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে রাশিয়ার ওই বিবৃতিতে। 

চীন: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফের প্রতিবেশী পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি খ্যাত চীন। গেল শুক্রবার (৯ আগস্ট) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠক শেষে পাঠানো বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে পাক গণমাধ্যম 'দ্য ডন' জানায়, চলমান কাশ্মীর সঙ্কট নিরসনে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাক সরকারের পাশে থাকবে চীন। যে কারণে ইস্যুটি নিয়ে এরই মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। তাই এবার চীন এখানেও নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা নিশ্চিত করেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাক সরকারের সকল 'বৈধ অধিকার ও স্বার্থের' প্রতি চীন তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সম্প্রতি ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে সৃষ্ট উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও এতে জানানো হয়।

তুরস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থমথমে পরিস্থিতির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এরদোয়ান তার দেশ কাশ্মিরী জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে যেকোনও পরিস্থিতিতে তুরস্কের দৃঢ় সমর্থন পাকিস্তানের পাশে থাকবে বলে জানান এরদোয়ান।

মালয়েশিয়া: কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গেল সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এ ঘোষণা দেন তিনি। 

মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘মালয়েশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে আইওকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত: এদিকে তুরস্ক ও মালয়েশিয়া পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালেও এশিয়ার আরেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থন জানিয়েছে ভারতকে। জম্মু ও কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. আহমেদ আল বান্না।

তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যের পুনর্গঠন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে উন্নতির লক্ষ্যে মূলত এটি করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

চলমান কাশ্মির সংকট নিয়ে এখনও বিশ্বের আরও অনেক মোড়ল দেশই মুখ খুলেনি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে জানানো হয়েছে, কাশ্মির নিয়ে ভারত কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশের কথা বলার কোনও এখতিয়ার নেই। তবে বাংলাদেশ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। 

ট্যাগ: bdnewshour24