banglanewspaper

এবছর ঈদুল আজহায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে মোট ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২শ ৫৩ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৯শ ৮ জন। আর ঈদযাত্রায় কেবল সড়ক দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেছে ২ শ ২৪ জনের। সড়কে ২০৩টি দুর্ঘটনায় ৮শ ৬৬ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ৬ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবছর ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭টি মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৩ শতাংশ।  অন্যদিকে পথচারীকে গাড়ী চাপা দেওয়ার কারণে  ৫২.২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। আর এই দুইটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে ৬.৪০ শতাংশ। এছাড়া মৃত্যু ৬.২৫ শতাংশ ও  আহত ১.৫০ শতাংশ কমেছে।

গত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো হলও এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারি, ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ঈদযাত্রার ১২ দিনে ৩৭ জন চালক, ৩ জন শ্রমিক, ৭০ জন নারী, ২২ জন শিশু, ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৩ জন সাংবাদিক, ২ জন চিকিৎসক, ৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৩ জন রাজনৈতিক নেতা, ৯শ যাত্রী ও পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।একই সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ১১ টি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১টি, ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষে ১টি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যায় ১টি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।একই সময়ে নৌ পথে ২৪ টি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৯ জন নিখোঁজ ও ২৭ জন আহত হয়েছন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে ঈদুল আজহায় ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২শ ৪৮ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৫ জন আহত হয়। ২০১৭ সালে ২১৪টি দুর্ঘটনায় ২শ ৫৪ জন নিহত ও ৬শ ৯৬ জন আহত হন। আর ২০১৮ সালে ২৩৯টি দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৯৬০ জন আহত হন। এবার আগের বছরের তুলনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা দুটোই কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, যতোদিন চালক ও সহকারীদের বেতন ও কর্মঘণ্টা ঠিক  করা হবে না ততোদিন  এই সমস্যার কোন সমাধান হবে না। ঈদের আগে সড়ক মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঈদের পর তা বেড়েছে। কারণ চালকরা বিশ্রাম নিতে পারেননি।

তারা বলেন, ঈদের আগে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীসহ র‍্যাব ও বিভিন্ন সংস্থা যেভাবে মনিটরিং করে পরে তা করা হয়না। ফলে আশঙ্কাজনকভাবে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। আমরা ঈদের আগে ও পরে একইভাবে মনিটরিং দেখতে চাই।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহ সভাপতি তাওহিদুল হক লিটনসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: bdnewshour ঈদ