banglanewspaper

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে মিরাট মৌজায় খাস প্রায় ৮ বিঘা ডোবা সরাকরি ভাবে হটাৎ করে প্রভাতী যুব সমাজ মিরাট সংগঠনকে খাস আদায় দেওয়ায় দখল নিয়ে গ্রামের পক্ষ ও সংগঠনের পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ওই ডোবা দখল করাকে বেন্দ্র করে যে কোন মুহুর্থে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তবে গ্রামের লোকজনের দাবি ওই ডোবা খেকে পানি নিয়ে জমির বীজতলা তৈরি ও জমির সেচসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজে ওই ডোবা ব্যবহার করতো তারা। হটাৎ করে ওই সংগঠনকে খাস আদায় দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে গ্রামের লোকজন।

জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের মিরাট মৌজার ১নং খতিয়ান ভুক্ত ৬০৬, ৬৯৩, ২৭৫২ ও ২৮২০ দাগে খাস প্রায় ৮ বিঘা খাস ডোবা রয়েছে। ওই ডোবা গুলো মিরাট গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জমির বীজতলা তৈরি ও জমির সেচসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজে ওই ডোবা ব্যবহার করে আসছে। হটাৎ করে প্রভাতী যুব সমাজ মিরাট সংগঠনকে ১৪২৬ সনের খাস আদায়ের জন্য উপজেলা ভুমি অফিস থেকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে ওই সংগঠনের সভাপতিসহ অন্যান্যরা ডোবা গুলো দখল করার পাইতারা চালিয়ে আসছে। এ ডোবা দখল করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের পক্ষ ও সংগঠনের পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংঘর্ষের আশংঙ্কা। ওই গ্রামের লোকজনের দাবি কাউকে না জানিয়ে হটাৎ উপজেলা ভূমি অফিস ওই ডোবা সরকারি খাস আদায়ের জন্য ওই সংগঠনকে দেওয়ায় গ্রামের সকল কৃষকের বীজতলা তৈরি ও জমি সেচসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। গ্রামের লোকজন আরো বলেন ওই ডোবা খাস আদায়ের জন্য যদি তাদের জানানো হতো তাহলে তারাই খাস আদায়ের বন্দোবস্ত করে নিতো এবং গ্রামে কোন বিশৃঙ্খলা ঘটতো না বলে দাবি করেছেন তারা। তাই দ্রুত এই প্রভাতী যুব সমাজ সংগঠনের কাছ থেকে খাস আদায় বন্দোবস্ত বাতিল করে গ্রামের লোকজনের কৃষি কাজে ব্যবহার ও ধর্মীয় উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামের লোকজনকে খাস আদায়ের বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকের কাছে দাবি জানেিয়ছেন তারা।

মিরাট গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামসহ জাহিদুল ইসলাম, হানিফ, আব্দুস সালাম, সাজেদুল, আমজাদ হোসেন, আফজাল হোসেনসহ আরো অনেকেই জানান, ওই ডোবা দীর্ঘদিন যাবৎ এই গ্রামের সকল কৃষক বীজতলা  তৈরি ও জমিতে সেচ কাজে ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু হটাৎ করে উপজেলা ভূমি অফিস প্রভাতী যুব সমাজ সংগঠনকে খাস আদায়ের বন্দোবস্ত দেয়। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে ওই সংগঠনের সভাপতিসহ অন্যান্যরা ডোবা দখল করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে গ্রামের লোকজন ও সংগঠনের লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংঘর্ষের আশংঙ্কা। ওই ডোবা সরকারি খাস আদায়ের জন্য ওই সংগঠনকে দেওয়ায় গ্রামের সকল কৃষকের বীজতলা তৈরি ও জমি সেচসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ হবে। তাই দ্রুত এই প্রভাতী যুব সমাজ সংগঠনের কাছ থেকে খাস আদায় বন্দোবস্ত বাতিল করে  গ্রামের লোকজনের কৃষি কাজে ব্যবহার ও ধর্মীয় উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামের লোকজনকে খাস আদায়ের বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবি জানেিয়ছেন উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকের কাছে তারা।

এ ব্যাপারে প্রভাতী যুব সমাজ সংগঠনের সভাপতি জেল হোসেন বলেন, এই ডোবা খাস আদায় করার জন্য উপজেলা ভ’মি অফিস থেকে আমাদের মৌখিক অনিমতি দিয়েছে তাই আমরা সরকারের কাছে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছি তবে এখনো পুরো পুরি কাগজপত্র হাতে পাইনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা দখল করার চেষ্টা করবো। তবে কোন রকম কোন সংঘর্ষের আশংস্কা নাই বলে দাবি করেছেন তিনি।     

রাণীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) টুকটুক তালুকদার বলেন, সরকারি খাস জমি সরকারের দখল রাখার স্বার্থে ওই সংগঠনের কাছে খাস আদায় দেওয়া হয়েছে। তবে জমির শ্রেণী ডোবা হলেও এখন বর্তমান অবস্থা পুকুরের মতো হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour রাণীনগর