banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৮ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ঈদুল আযহার আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) তাদের ওয়েবসাইটে শাখা (আউটার) ক্যাম্পাস রয়েছে এমন ২৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করে। এতে ক্যাম্পাসগুলোকে অবৈধ উল্লেখ করে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বারবার সর্তক করা হয়। 

বিশ্বস্ত সূত্রে আমাদের কাছে নোটিশ এসেছে যে, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই এবং তাদের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের জন্য আইনি লড়াই চলছে। সম্প্রতি তারা ধানমন্ডি ৮এ তে একটি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে। আমরা ইউজিসি কর্মকর্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। 

সিটি ইউনিভার্সিটি পান্থপথে একটি ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে; আমাদের কাছে এও স্পষ্ট নয়–ইউজিসি কেনো তাদের নাম তালিকায় যুক্ত করেনি।

এক অনুসন্ধানে এই ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন যে, ইউজিসি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় নাম থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে কয়েকটি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বল্পতা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে স্থান স্বল্পতা ও উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশের অভাব। তারা টিকে থাকতে চেষ্টা করছে এবং শিক্ষার্থী বাড়াতে ঢাকাস্থ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটির মতো মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেলে সেই সব ছাত্র-ছাত্রী তাদের ঢাকায় অবস্থিত ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি করেনি।

আরও পড়ুন: 

-> ইউজিসিকে ঢেলে সাজাতে হবে : প্রফেসর ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য

উল্লেখ্য, ড্যাফোডিলের আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এর রাজধানীর উত্তরার ১৭ এইচ সেক্টরে স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, ড্যাফোডিলের ক্যাম্পাস আশুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এর ক্যাম্পাস শহরে হলেও বর্তমানে উত্তরার ১৭ এইচ সেক্টরে হওয়ায় যাতায়াত খুব কঠিন। 

ইউজিসি ২৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাম্পাসের নোটিশ জারি করার পর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধ ক্যাম্পাসের বিরুদ্ধে ইউজিসির ৭-৮ বছরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেখা গেছে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘ দিন ধরে তাদের পাঁচটি ক্যাম্পাস চালু রেখেছে এবং ইউজিসি এই ক্যাম্পাসগুলোর বিরুদ্ধে কখনোই কোনো অভিযোগ তোলেনি।
 
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) এর আটটি ক্যাম্পাসকে ইউজিসি অবৈধ ও অননুমোদিত ঘোষণা করেছে। অথচ এটি ২০০২ সাল থেকে চলছে। ইউজিসি কেনো বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যাপারে সর্তক করেছে, আমরা ইউডা'র প্রশাসনের কাছ থেকে তার কোনো মন্তব্য পায়নি। একই সমস্যা ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর ক্ষেত্রেও। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন–এত বছর পর কিভাবে তাদের ক্যাম্পাস অবৈধ হলো? শিক্ষার্থীরা ইউজিসি’র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছেন, গত ৭-৮ বছরে তাদের কী ভূমিকা ছিল, যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রোগ্রামগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। 

আরও পড়ুন: 

-> প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং কি গ্রহণযোগ্য?

শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটির ভবন অবৈধ উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, ইউজিসি’র পরিদর্শনের পর তারা ল' ভবন এবং সিভিল অ্যান্ড এফডিটি ভবন ক্রয় করেছে। তাদের সব ক্যাম্পাসই বৈধ্য। 
 

ট্যাগ: bdnewshour ইউজিসি