banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

সোমবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ- এর রেজিস্টার প্রফেসর আব্দুস সালাম মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একজন মানুষ ছিলেন- যিনি চেয়েছিলেন রাস্ট্রনায়কের সাথে যেন জনগণ সংস্পর্শেই থাকেন। সেজন্য তিনি নিরাপত্তার কথা সেভাবে ভাবেননি। তার বাস ভবনে যেকোনো মানুষ এসে তাঁর সাথে নির্দ্বিধায় দেখা করতে পারতেন। কিন্তু জনগণের সাথে দেশ প্রধানের জনসংযোগটা আমরা ধরে রাখতে পারলাম না। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।’

ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধের পরে আমরা যারা জন্মগ্রহণ করেছি তারা কেউই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বচক্ষে দেখিনি। আমরা তাঁর গল্প, লেখা ও ভাষণ শুনে বড় হয়েছে এবং অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজ যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো তাহলে আমাদেরকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে হতো। বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা আজ বিশ্বব্যাপী বাঙ্গালী নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারি এবং বিশ্ববাসীরাও আমাদের সেভাবেই সমাদর করে থাকেন।’

‘বঙ্গবন্ধু যে ক’দিন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তাঁর দেখানো পথেই আমাদের দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের স্থান সর্বোচ্চ। এডিবির তালিকায় জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পাকিস্তানের চেয়ে দিগুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।’

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য মুশফিক মান্নান বলেন, ‘সরকারকে অনুরোধ করছি- দেশকে আরও উন্নত করে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টেন্স ইনভেস্টমেন্টে যাওয়া উচিত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া না হলেও শিক্ষকেরা অসাধু উপায়ে শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক উন্নত এবং মানসম্পন্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি পরিবারের ছোট ভাই থেকে শুরু করে মা-বাবাসহ সবাইকে যদি হত্যা করা হয় সেই পরিবারে জীবিত সদস্যদের উপর যে কি প্রভাব পড়ে এটা আমরা সবাই অনুধাবন করতে পারি। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই শোককে শক্তিশালী করে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সবার উচিত যার যার অবস্থান থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাওয়া। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগবে না।’

আলোচনা সভায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ- এর প্রক্টর কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিলিটারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের পক্ষে ছিলো না। তারা লড়াই করেনি। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে লড়াই করেছিল সাধারণ মানুষ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও যে সমস্যা ছিলো সেই সমস্যাগুলো সমাধান করে যেতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। তার আগেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু নয়, সম্প্রতি জাতিসংঘ তাঁকে 'বিশ্ববন্ধু' উপাধি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে আমরা ধন্য। তাঁর আদর্শ, তাঁর সততা, তাঁর বিচক্ষণতা আমরা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি, এতে আমরা গৌরবান্বিত। বঙ্গবন্ধুর কথা আমরা স্মরণ করে যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যাবো।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এর রেজিস্ট্রার প্রফেসর আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি প্রখর মেধার অধিকারী, অত্যন্ত ভারি গলা ও প্রচণ্ড ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নেয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর এবং সহজেই মানুষকে আন্তরিকতার সাথে তুই অথবা তুমি করে কথা বলতেন। আমরা বাঙ্গালীদের দুর্ভাগ্য, তাঁকে আমরা বেশি দিন বাঁচতে দিয়নি।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী সকল সদস্যদের রুহের শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 জাতীয় শোক দিবস