banglanewspaper

বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের কন্টিনেন্টাল শেলফের (মহীসোপান) দাবি নিয়ে যে আপত্তি জানিয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইটলস (জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল) রায় দিয়েছিল। কিন্তু তার পরও কন্টিনেন্টাল শেলফ নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা আছে। সেটি নিয়ে আমরা আলাপ করেছি এবং মোটামুটি আলোচনা হয়েছে আমরা এটি সমাধান করব।’

বাংলাদেশ অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিউচ্যুয়ালি আমরা দুজনই (দুই পক্ষই) প্রত্যাহার করব। রাজি হলে পরে আমরা দুজনই প্রত্যাহার করব। এটি আমরা মোটামুটি সমঝোতায় এসেছি।’

ভারত ও মিয়ানমার ২০০৯ সালে এবং বাংলাদেশ ২০১১ সালে জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে। এরপর প্রত্যেকে আবার অপরের দাবির ব্যাপারে আপত্তি জানায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গতকালের বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ভারতীয় পক্ষ) কোনো প্রশ্ন করেনি, বলতেও বলেনি। তবে নীতিগতভাবে আমরা মনে করি, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের অবস্থান শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পক্ষে।’ তিনি বলেন, গতকালের বৈঠকে ভারত বাংলাদেশে চলাচলকারী তাদের দেশের ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তায় ‘স্কাই মার্শাল’ রাখার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভারতের এ ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা জানিয়েছে।

সন্ত্রাসের বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতির জন্য বৈঠকে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিয়েছে ভারত। তারা বলেছে, বাংলাদেশ এসব কাজ করছে বলেই ভারতের নিরাপত্তার উন্নতি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে এর আগে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর (এমওইউ) বাস্তবায়নের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে। আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়বস্তু ও প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো নিয়েও গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ভারত সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বিষয়টি তুলেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে বলেছে।

তবে গতকালের বৈঠকেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই করা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ দিতে পারেনি ভারত। বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ গুরুত্ব দিয়ে তুলেছে। গত ৮ আগস্ট ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে সাতটি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সমাধানের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সে বিষয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মা নদীর ভারতীয় এক কিলোমিটার অংশে ‘ইননোসেন্ট প্যাসেজ’ চেয়েছে। ভারত বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

২০১৭ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে যে এমওইউ সই করেছিল তার আওতায় এখনো সরঞ্জাম কেনা শুরু না হওয়ার বিষয়টি বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ বলেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পাঠানো ২৭টি পণ্যের মধ্যে ভারত ২১টি পণ্য অনুমোদন করেছে। রপ্তানির স্বার্থে বাকি ছয়টি পণ্যের অনুমোদন দিতে বাংলাদেশ ভারতকে বলেছে।

রাবার রপ্তানিতে সমস্যা এবং পাটপণ্যে ভারতের ‘অ্যান্টি ডাম্পিং’ ইস্যুটিও বাংলাদেশ বৈঠকে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য আরো বাড়াতে ভারত এ দেশে ভারতীয় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত হাটের দুর্বলতাগুলো দূর করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ভারতীয় পক্ষ) এ দেশে ভারতীয় অর্থায়নে প্রকল্পগুলোতে কর ও ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছিল। এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।’ তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ভারত এ ক্ষেত্রে সম্মত আছে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গ্যাস গ্রিড লাইন চালু করতে চায়।

ট্যাগ: bdnewshour কাশ্মীর বাংলাদেশ ভারত