banglanewspaper

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ফের একবার ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ শব্দটি ব্যবহার না করে সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেছেন ইমরান খান।

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে ইমরান খান বলেন, ‘কাশ্মীরে ভারতের অত্যাচার দেখেও যদি গোটা বিশ্ব ঠুটো জগন্নাথ হয়ে, এভাবে চুপচাপ বসে থাকে, তার ফল কিন্তু ভয়ানক হবে। গোটা বিশ্বকেই এর মূল্য দিতে হবে।’

পরমাণু যুদ্ধের হুঁমকি দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন ইমরান। রাজনাথের বক্তব্য ছিল, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিলে ভারত শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু, আগামী দিনে প্রয়োজনে এই নীতি বদল করা হতে পারে। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তার উপরই এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।’

জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে সব রকমের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ইসলামাবাদ।

জি-৭ শীর্ষক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাক্ষাতের পরেও কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার সম্ভাবনা ভেস্তে গিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আকার নেয়, তবে মনে রাখতে হবে, উভয় দেশই পরমাণু শক্তিধর। পরমাণু যুদ্ধে কারও জয় হবে না। বরং এটা গোটা বিশ্বে বিস্তার লাভ করবে। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে… তারা আমাদের সমর্থন করুক বা না করুক, পাকিস্তান কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাবে।’

ইমরান খান বলেন, ‘কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং ৩৫-এ প্রত্যাহার করে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঔদ্ধত্য দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রচুর সেনা মোতায়েন করে কাশ্মীরকে আত্মসাৎ করেছে ভারত। গান্ধী ও নেহরু কাশ্মীরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভেঙেছে ওরা। সমগ্র বিশ্ব ৮০ লাখ কাশ্মীরিদের পাশে থাকুক বা না থাকুক, পাকিস্তান কাশ্মীরের পাশে আছে।’

ইমরানের বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রেখে চলা। তার সরকার বারবার চেষ্টা করেছে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার। বলেছিলাম, শান্তি স্থাপনে ভারত এক পা এগোলে, চার পা এগোব আমরা।

কিন্তু, ভারত তাতে আগ্রহ দেখায়নি। সবকিছুর জন্য শুধু পাকিস্তানকে দায়ী করে গেছে। নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থানে অটল থেকে, আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অজুহাত হিসেবে খাড়া করেছে, সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।

১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দিয়ে, পাকিস্তান যে সৌজন্যবোধ দেখিয়েছে, ইমরান সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য আরএসএসকেও কাঠগড়ায় তোলেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, ভারত আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। কাশ্মীর ইস্যুতে আরও একবার জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 কাশ্মীর সামরিক অভিযান নিউইয়র্ক টাইমস ইমরান