banglanewspaper

দুই দশক আগে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধে লড়া মোহাম্মদ সানাউল্লাহও নাগরিত্ব পেলেন না ভারতেন। যদিও তিনি সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরেও গেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জুনিয়র কমিশনড অফিসার হিসেবে অবসরে যাওয়া এই সেনার দুই সন্তানেরও মেলেনি নাগরিকত্বের স্বীকৃতি। যদিও তার স্ত্রী পেয়েছেন নাগরিকত্ব।

অবসরের পর আসাম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এএসআই হিসেবে কাজ করতেন সানাউল্লাহ। তিনি সন্দেহভাজন নাগরিক ও অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত, আটক, বিতাড়নের কাজ করতেন।

শনিবার আসামের বহুল আলোচিত নাগরিক পঞ্জি প্রকাশ হয়, যেখানে নাগরিকত্ব হারিয়েছে ১৯ লাখের মতো। এদের মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এই যজ্ঞ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আসামে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের মধ্যে সানাউল্লাহর বিষয়টি সামনে আসায় তৈরি হয়েছে সমালোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এ বছরের শুরুতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সানাউল্লাহকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে। তখনও ভারতের সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি।

ভারতের নাগরিকত্ব না পেলেও পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধে অবদানের জন্য তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি পদকও পেয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালে ‘সন্দেহজনক’ ভোটার হিসেবে তার নাম তালিকাভুক্তির পর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে তার নামে মামলা হয়।

এরপর মে মাসে বন্দীশিবিরে পাঠানো হয় সানাউল্লাহকে। পরে গুয়াহাটি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। তবে হাইকোর্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় খারিজ করে দেয়নি।

সানাউল্লাহ ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্তির সুযোগ ছিল না। এনআরসির ধারা অনুসারে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত কোনো বিদেশি ও তার সন্তানরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাবেন না।

ট্যাগ: bdnewshour24 কারগিল যুদ্ধ