banglanewspaper

চাঁদপুরের মতলবে একটি মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে তার ছেলেসহ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সেটা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই কক্ষে অক্সিজেনের অভাবের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পানি মনে করে শিশুরা আইপিএসের এসিডের বোতল থেকে পান করে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে স্থানীয়রা। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তা বলতে পারছে না পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন শিশুর মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।

শুক্রবার মতলব পৌরসভার পূর্বকলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জুমার নামাজের পর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হচ্ছে পূর্বকলাদী জামে মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান (৮), মতলব পৌরসভার নলুয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. রিফাত (১০) ও দশপাড়া গ্রামের আফসার উদ্দিনের ইব্রাহিম খলিল (১২)।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি বলেন, ‘যে কক্ষে ইমাম ও তার শিশুপুত্র থাকত সেই কক্ষটি আকারে খুবই ছোট। সেই কক্ষে মসজিদের আইপিএসের ব্যাটারির এসিড পানি থাকত। ফলে ওই কক্ষটি কেমিক্যালের তীব্র গন্ধময় হয়ে ওঠে। ধারণা করা হচ্ছে তিন শিশু ওই কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে।
এসপি জানান, বিষয়টি আরও গভীরে তদন্ত করার জন্য শুক্রবার রাতেই ঢাকা থেকে কেমিক্যাল এক্সপার্ট ও ফরেন্সিক এক্সপার্ট একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

জিহাদুল কবির জানান, তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য স্থানীয়ভাবে পুলিশ সুপার নিজে থেকে তার সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ও মতলব দক্ষিণ থানার ওসি দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ইমামের কক্ষে এসিডের পানির বোতল থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই বোতল থেকে পানি মনে করে শিশুরা পান করে থাকতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন, ডিবি পুলিশের ওসি মামুন উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইমাম অক্সিজেন