banglanewspaper

আসামের নাগরিক তালিকাকে (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একাত্তরের পর বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি। সে দেশের সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, আসামের এনআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৪-১৫ লাখ বাসিন্দাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হবে; আসামের অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। ভারত দাবি করে আসছে তালিকা থেকে বাদ পড়ারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্থায়ী হওয়া অবৈধ অভিবাসী। তবে বাংলাদেশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তালিকা প্রকাশের পর ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সমন্বয়কারী ও আসামের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু এবং তারা আমাদের সহায়তা করে আসছে। আমরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করলে তারা বরাবরই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই সংখ্যাটি বেশি বড় না, তবে এখন আমরা তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

হেমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে বলেন, ‘এনআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি আবারও বলছি, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি জানি না এই বিষয়ে কে কী বলেছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানালে, আমরা জবাব দেব। সবমিলে আমি বলতে পারি, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। হতে পারে ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে তারা (মূলত বাংলাভাষীরা) আসামে স্থায়ী হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে নয়।’

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারত আমাদের সঙ্গে আছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। তারা আমাদের বন্ধু, কিন্তু এনআরসি নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, ১৯৭১ সালের পর কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। আমি মনে করি না ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেবে।’

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা ১২০ দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ পাবেন। এনআরসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে আসামের বাসিন্দাদের ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে রাজ্যটিতে বসবাসের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হচ্ছে। তালিকা প্রকাশের পর নিউজ ১৮কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ১৯৭১ সালের পর যারা শরণার্থী হিসেবে এসেছেন তারা সমস্যায় পড়বেন। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে, কিন্তু অনেকেই এনআরসি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করেছেন, আর আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। 

ট্যাগ: bdnewshour24 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী