banglanewspaper

যেকোনো সফরের মূল ম্যাচ শুরুর আগে সাধারণত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে থাকে সফরকারী দলগুলো। সে ম্যাচের লক্ষ্য থাকে স্বাগতিক দেশের উইকেট, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া এবং নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং ঝালিয়ে নেয়া।

বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে নামার আগে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে এমনই এক দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল আফগানিস্তান। যার পূর্ণ ফায়দাই পেয়েছে তারা। ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই বিসিবি একাদশকে নাজেহাল করে ছেড়েছে রশিদ খানের দল।

ম্যাচটি মাত্র দুই দিনের হওয়ায় কোনো ফল আসা কষ্টসাধ্য ব্যাপারই বটে। যা আসেওনি এ ম্যাচে। তবে নৈতিক জয়ের ব্যাপারে কথা বললে, সেটি অবশ্যই পেয়েছে আফগানিস্তান। কেননা স্থানীয় দলের বোলারদের ও ব্যাটসম্যানদের ওপর দুইদিনই আধিপত্য বিস্তার করেছে সফরকারী দলের খেলোয়াড়রা।

স্কোরকার্ড জানান দিচ্ছে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। তাদের দুই ওপেনার ইহসানউল্লাহ জানাত এবং ইব্রাহিম জাদরান গড়েন ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি। ইহসানউল্লাহ ৬২ এবং ইব্রাহিম ৫২ রান করে আহত অবসরে যান।

এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদী ২৬, মোহাম্মদ নবী ৩৩, আফসার জাজাই ৩৫ রানের ইনিংস খেলে নিজেদের ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নেন। তখনও বাকি ছিলো বোলারদের প্রস্তুতি। তাই অলআউট হওয়ার আগেই ২৮৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দেন আফগান অধিনায়ক। এ সিদ্ধান্তের জন্য কায়মনে অপেক্ষা করছিলো আফগান বোলাররা।

যা তারা প্রমাণ করে দেয় বোলিং করতে নেমেই। সারাবছর জুড়ে ঘরোয়াতে ভুরিভুরি স্পিনারদের মোকাবেলা করা বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানরা কুপোকাত হয়েছে আফগানদের স্পিনের বিপক্ষেই। আফগানদের করা ২৮৯ রানের জবাবে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে বিসিবি একাদশ। দলের কোনো ব্যাটসম্যানই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি।

দলের দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় (১৯) ও সাব্বির হোসেন (৪) সাজঘরে ফিরেছেন ২৭ রানের মধ্যেই। আফগান দুই ওপেনার ইহসানউল্লাহ এবং ইব্রাহিম জাদরান যতোটা ধৈর্য্য এবং টেম্পারমেন্টের পরিচয় দিয়েছেন, এনামুল-সাব্বির পারেননি তার ধারেকাছেও যেতে। মাত্র ১৯ রানের ইনিংসেও ১টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়েছেন এনামুল।

আশা জাগানো নাঈম ইসলাম (১৩) কিংবা ঘরোয়াতে ভালো করা ফজলে মাহমুদও (৮) পারেননি কিছু করতে। বল হাতে অগ্নিপরীক্ষায় নামা জোবায়ের হোসেন লিখন যেমন পারেননি নিজের দাবী জোরালো করতে, তেমনি নাঈম ইসলামও আউট হয়ে গেছেন মাত্র ১৩ রান করে। যে কারণে তাদের দলে ফেরার দাবী হয়তো আবারও চাপা পড়ে যাবে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে।

বল হাতে বিসিবি একাদশের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন আলআমিন জুনিয়র। তিনি আশা জাগিয়েছিলেন ব্যাটিংয়েও। কিন্তু টেস্ট মেজাজের বদলে চালিয়ে খেলে ৫ চারের মেরে ২৯ রান করে দলীয় ৮২ রানের মাথায় পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে গেছেন সাজঘরে।

৮২ রানে প্রথম পাঁচ উইকেট নেয়ার পর, শেষের পাঁচ উইকেট নিতে মাত্র ৪১ রান খরচ করেছে আফগানরা। বিসিবি একাদশের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ১৫ এবং ফারদিন অনি ১৪ রান করে দলের সংগ্রহ কোনোমতে ১০০ পার করান। দুইদিনের প্রায় সাড়ে তিন সেশনে ৯৯ ওভার বোলিং করে, বিসিবি একাদশ নিজেরা অলআউট হয়েছে মাত্র ৪৪.৩ ওভারে।

আফগানদের পক্ষে বল হাতে ১১.৩ ওভারের স্পেলে ৩ মেইডেনের সাহায্যে মাত্র ২৪ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি চায়নাম্যান জহির খান। অধিনায়ক রশিদের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৩টি উইকেট।

পরে দিনের শেষভাগে ৩.৫ ওভার ব্যাটিং করেছে আফগানিস্তান। যেখানে কোনো উইকেট না হেরে ১৪ রান করতে পেরেছিল তারা।

ট্যাগ: bdnewshour24 বিসিবি