banglanewspaper

অর্থ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বব্যাংককের কর্মকর্তাদের একটি পাটের নৌকা উপহার দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলামিস্ট এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, কলামিস্ট ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ মাহবুব আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘সব পর্যায়ের বৈষম্য দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যেই বাংলাদেশে ১ শতাংশও শিক্ষার হার ছিল না মেয়েদের, সেখানে এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র ৫৩ শতাংশ ছাত্রী।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে আমরা যেখানে যাই সেখানে তারা জিজ্ঞেস করে- আমাদের একটু শিখাইয়া দাও কেমন করে সামনে যেতে হয়। এই সামগ্রিক রূপান্তরটা এর পুরোটাই হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃষ্টি হচ্ছে মহাকাশের দিকে- 'বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট', তার দৃষ্টি ব্লু ইকোনমীর দিকে, তার দৃষ্টিসীমা রয়েছে শত বছরের ডেল্টা প্লান্টের দিকে। তাঁকে কোনো অংশে কম প্রগতিশীল ব্যক্তি বলাটা অন্যায় হবে, পাপ হবে। তিনি প্রগতিশলতার চরম উৎকর্ষতা বাংলাদেশে ঘটিয়েছেন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক-সমাজ বিন্যাসের বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকারী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি আমাদেরকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পথ দেখাচ্ছেন। তার মূল জিনিসটাই হচ্ছে দূরদর্শিতা। যার মধ্যে দূরদর্শিতা রয়েছে তার মধ্যে প্রগতিশীলতা অবশ্যই থাকতে হবে নিঃসন্দেহে। সেই দূরদর্শিতার গুণটাকে আমি অবলম্বন করে বলবো- শেখ হাসিনা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রগতিশীলতাকে ধারণ করেছেন ও বরণ করেছেন। 

আপনারা সবাই জানেন আগামী ২৮শে সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে পরম কনুরাময় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাই তাঁকে যেন সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করেন। 

শেখ হাসিনা সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, একবার ২৮শে সেপ্টেম্বর তারিখে তাঁর (শেখ হাসিনা) জন্মদিনে গেলাম। সাথে ছিলো আমার বড় ছেলে অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী, তখন আমার ছেলে অনেক ছোট। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। শেখ হাসিনা আমার ছেলেকে দেখেই জিজ্ঞেস করলেন- কে এই ছেলে? 

তখন বাচ্চা ছেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে বললো- আপনি আমার পরিচয় জানতে চাইলেন? এক মাস আগেও তো আপনার সাথে আমার দেখা হলো। একমাসের মধ্যেই আপনি ভুলে গেলেন? 

আমার ছেলের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এসময় আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানালাম ২৯ সেপ্টেম্বর হলো আমার ছেলের জন্মদিন। 

তখন আমার ছেলের কথার জবাবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাখা সব ফুল একসাথে করে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানালেন এবং বললেন- আমি তো তোমার জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে পারলাম না তাই তোমার ২৯ তারিখের শুভেচ্ছা আজকে জ্ঞাপন করলাম। 

এই কথা বলেছি শুধু একটামাত্র কারণে তা হলো মানুষকে ধারণ করা এটা নেতৃত্বের বড় জিনিস। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বে তিনি অনন্য। 

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে টাকা দেয়নি, সেই বিশ্বব্যাংক আইসা বলছে- তোমাদের টাকা-পয়সা দেই দু-একটা প্রজেক্ট কর না কেন? আমি ওরে বলে দিয়েছি, তোমার টাকার আর দরকার হবে না, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। একটা পাটের নৌকা উপহার দিয়া বিদায় করে দিয়েছি। এটিই বাংলাদেশ, আমরা সেই জায়গায় পৌঁছেছি।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাস এই মাসের ২৮ তারিখে ইচ্ছা করলেও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারি না। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। তিনি শুধু আমার প্রধানমন্ত্রী সহকর্মী নন এখন। খুব গর্বের সঙ্গে বলি আমরা দু’জন এক সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছি।’

‘আমরা স্মৃতিতে যখনই তাকে নিয়ে আলোচনা করার প্রশ্ন আসে, তখনই একটু সেদিকে চলে যাই। আমি স্মরণ করি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতলায় বাংলা বিভাগে এক ভদ্র নারী একদম ফড়িংয়ের মতো উড়ে বেড়াতেন। তার একটি সাদামাটা আটপৌরে তাঁতের শাড়ি থাকত। মুখের মধ্যে কোনদিন স্নো, পাউডার, লিপস্টিক দিয়েছেন- এটি আমার স্মৃতিতে পড়ে না। আমাদের এই সময়কালে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন; তারা কেউ গ্রাম থেকে এসেছেন, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। তাদের সঙ্গে যে সময়টা তিনি কাটিয়ে এসেছেন, তাদের কারো পক্ষে বলা কঠিন ছিল, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে জীবন-যাপন করতেন সেখানে তিনি অতি সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে মিছিল মিটিং থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের সব কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকতেন। একজন সদ্য বিবাহিত নারী তার ছাত্রজীবন ও সংসার জীবন একসঙ্গে করে কেমন করে যে সমন্বয় করে চলছেন, সেটি স্মৃতিচারণ করতে গেলে আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়।’

আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ভিত্তিটা বঙ্গবন্ধু স্থাপন করেছিলেন জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়াতে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ যে লাঙ্গল-জোয়ালের দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলার মতো একটা পরিস্থিতিতে যাবে সেই সূচনাটা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 মোস্তাফা জব্বার অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ