banglanewspaper

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ জাতীয় বিভিন্ন দৈনিক বাংলা ও ইংরেজী, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় আত্রাইয়ে বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের যোগসাজসে টেন্ডার ছাড়া রাস্তার গাছ কর্তন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি এর সত্যতা পেয়েছে। 

সোমবার বিকেলে নওগাঁ জেলা সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ)ও রেঞ্জার উভয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং যাবতীয় কাগজপত্র নিরিক্ষা করেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহবায়ক নওগাঁ জেলা সহকারী বন সংরক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর নির্দেশনা মোতাবেক আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ের সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন দুই/এক দিনের মধ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দিবেন বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছগুলো কাটা হয়েছে ২০১৮ সনের শেষের দিকে এবং সেগুলো অফিসে আনার পর একাধিকবার অন্যান্য রাস্তার গাছের টেন্ডার করা হলেও এই গাছগুলোর বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে জানাযায়,নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের যোগসাজশে টেন্ডার ছাড়া সড়কের গাছ কর্তন পরে সেই গাছ জব্দ করে গোপনে বিক্রয় করতে না পেরে ফেলে রাখা হয়েছে। টেন্ডার জটিলতার কারণ দেখিয়ে ওই বন কর্মকর্তা জব্দকৃত কাঠ দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে অবহেলায় অযত্নে রাখায় মাটিতে এমনভাবে মিশে গেছে যে গাছগুলো আর কোনো কাজে আসবে না।

রেলওয়ের পশ্চিম পাশ দিয়ে নাটোর টু নওগাঁ নতুন সড়ক নির্মানের কাজ শুরু হওয়ার কারণে সেখানে ৩ বিটে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ কাটা হলেও, বন কর্মকর্তা ও অসাধু  ঠিকাদারের যোগসাজশে অতিরিক্ত কয়েক ’শ গাছ কেটে বিক্রয় করে, আরো কিছু গাছ পাশের স’মিলে কাঠ করার জন্য নেয়।

বিষয়টি জানা জানি হলে বন কর্মকর্তা কৌশলে তা জব্দ করে। পরে তা নথি ভুক্ত না করে গোপনে বিক্রয় চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে জব্দকৃত শত শত আকাশমনি গাছ অযত্নে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। লাখ লাখ টাকার জব্দকৃত গাছ মাটিতে রেখে অনায়াসেই পচিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে সাহেবগঞ্জ গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, অফিস সীমানার মধ্যে রাখা আকাশমনি গাছ কেনার জন্য আমাকে বন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানালে, দামেদরে না হওয়ায় আমি চলে আসি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি গাছগুলো টেন্ডার ছাড়া কাটা হয়েছে যার কারণে এই অবৈধ গাছগুলো কেনার চেষ্টা করিনি। 

তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা এবং সুযোগ পেলে মানুষকে গাছ কাটা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, তিনি সপ্তাহে ২দিন অফিস করেন। রাণীনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার সুবাদে রাজশাহীর বাসায় থেকে আত্রাই অফিসে লোকজনকে বলেন রাণীনগর আছি, রাণীনগর খোজ নিলে বলেন আত্রাই আছি।

মোজাম্মেলের বিষয়ে জানা যায়, তিনি গাছ কাটার হয়রানি মূলক মামলা দেওয়ার নামে অথবা মামলা দিয়ে তার কর্মচারিদের স্বাক্ষী বানিয়ে আপোষের নামে মোটা টাকা হাতিয়ে নিতে খুবপটু। কর্মচারিরা যদি স্বাক্ষী না হয় তাদেরকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এই বন কর্মকর্তা। তিনি যত স্টেশনে চাকুরি করেছেন প্রতি জায়গায় এরকম মামলার কারণে তার বদলি হয়েছে বলে জানা গেছে।

একদিকে যোগসাজশে মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার সরকারি গাছ বিক্রয় করে যেমন বন কর্মকর্তা  ও অসাধু ব্যাবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে, অন্য দিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এলাকা বাসির দাবি কর্তৃপক্ষ এর সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত এই অসৎ কর্মকতাকে অপসারণসহ টেন্ডারে মাধ্যমে গাছ গুলো বিক্রয় হবে এমনটি আশা করেন এলাকার সচেতন মহল।

ট্যাগ: bdnewshour24 আত্রাই বন কর্মকর্তা