banglanewspaper

১৯২৬ সালের, ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহিরীটোলায় সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং চপলা দেবী জন্ম দেন এক পুত্র সন্তান এবং নাম রাখেন হেরম্ব চট্রোপধ্যায়।

তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। তার এক বোনও ছিলেন। যদিও তার দিদি ছেলেবেলাতেই মারা যান। পিঠাপিঠি হওয়াতে তিমি সারাজীবন বোন না থাকার কষ্টে থেকেছেন। পরে তার নাম রাখা হয় অরুণ কুমার। এই অরুণ কুমার উত্তম কুমার হয়ে আছেন আমাদের হৃদয়ে।

কলকাতার সাউথ সাব-আর্বা‌ন স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পাস করে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হলেও সংসারে আর্থিক অনটনের জন্য গ্র্যাজুয়েশন করা হয়ে ওঠেনি। কলেজে শেষ না করেই তাকে ছুটতে হয় চাকরির সন্ধানে।

কলকাতা পোর্টে মাত্র ২৭৫ টাকা বেতনে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পাড়ার নাট্যসংগঠন ‘লুনার ক্লাব’ এ লুকিয়ে লুকিয়ে নাটক দেখতেন, পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন। তার কাকা তাকে তার আগ্রহ দেখে অনুমতি দেন সদস্য হবার। স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ছোট গয়াসুরের ভূমিকায় অভিনয় করে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।

স্কুল জীবনে রবীন্দ্রনাথের ‘মুকুট’ নাটকে অভিনয় করে তিনি পাকাপাকিভাবে অভিনয়জীবন শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই যাত্রা আর থিয়েটারে প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল তার। সেই থেকে মনে লালিত হতে থাকে রূপালী পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন।

১৯৪৭ সালে তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় ভোলানাথ আঢ্যের ‘মায়াডোর’ নামক হিন্দি সিনেমার মাধ্যমে। কিন্তু মায়াডোর আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী বছর ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতে খুবই অল্প পারিশ্রমিকে কাজ করেন। ছবিটি সেসময় সফলতার মুখ দেখেনি।

এরপর ‘কামনা’, ‘মর্যাদা’, ‘সহযাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’, ‘কার পাপে’ এবং ‘সঞ্জীবনী’ ছবিতে ধারাবাহিকভাবে অসফলতার পর মুষড়ে পড়েন উত্তম কুমার।

একদিকে ফ্লপমাস্টার তকমা অন্যদিকে সিনেমার রোজগারে সংসার চালানো দায়। তাই অভিনয়ের পাশাপাশি চাকরি চালিয়ে গেলেন। গৌরি গাঙ্গুলিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ১৯৪৮ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে।

১৯৫০ সালে জন্ম হয় তার একমাত্র পুত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায়। সেসময় সব ছেড়ে সিনেমায় মন দেবেন বলে মনস্থির করেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 মহানায়ক উত্তম কুমার