banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: সন্ধ্যা হলেই টং দোকানের চারপাশে ভীর করে খদ্দের। ১৫বছর বয়সের কিশোর থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধরা লাইন দিয়ে কিনছে। ২০টাকা শুরু করে কোনটা আবার ৫০টাকা ধরে বিক্রি করা হচ্ছে এগুলো। এছাড়াও হরেক রকমের যৌন উত্তেজক পাওয়ার সিরাপ প্রকাশ্যে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুরে।

এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রামের ওষুধের দোকান ও মুদী দোকানেও নামে-বেনামে বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। চটকদার মোড়কে ভয়াবহ ক্ষতিকর আমলকি প্লাস, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট মুনিস, স্টিমুলার, ফ্যামেগ্রা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও সারভিটাল, সারডিগুল, আই ক্যাল এম, আইক্যাল বি, ভিটাফার্ড ডিএসসহ হরেক নামের নিম্নমানের ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বিক্রি হচ্ছে অবাধে।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,এ ওষুধগুলোতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ক্ষতিকর এস্ট্ররয়েড। এসব ওষুধ হৃদপিন্ড ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন পৌর মুক্ত মে র সামনে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। 

জানা যায়, শেরপুর জেলার আঃ রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম শ্রীপুর কলেজপাড়া এলাকায় একটি বাড়ীতে ভাড়া থেকে দিনমজুরের ( ইট ভাঙ্গানোর) কাজ করে। বিকেল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ১০ টা পর্যন্ত ওই টং দোকানে ৩০-৪০ ধরনের এসব সেক্স ট্যাবলেট সাজিয়ে বসে যায়। 

সাইফুল ইসলাম জানান, এসব বড়ি তো ফার্মেসী গুলোতে বিক্রি হচ্ছে। এখানে বসে যে টাকা বিক্রি করি তারমধ্যে রেলওয়ে স্টেশনের লোককে খাজনা দেই। আর কিছু লোক আছে যারা বড়ি (সেক্স ট্যাবলেট) নিয়ে টাকা দেয় না।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে,নিষিদ্ধ ও মানহীন ভেজাল ওষুধ সেবনের ফলে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ ওষুধে মানুষের মস্তিষ্ক চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ভেজাল ওষুধ ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে শরীরে ওষুধের কার্যকরী ক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি এসব ওষুধ সেবনের ফলে চিরদিনের মতো যৌনহানিসহ মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ ছাড়া নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারে রোগী ভালো না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার মধ্যেও পড়ে থাকেন। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাকসুদা খানম বলেন, ভেজাল ওষুধ সেবনে একদিকে রোগের উপসর্গ কমে না, অন্যদিকে যে রোগের জন্য ওষুধটি খাওয়া হলো তা নিয়ন্ত্রণে না এসে রোগীর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটায়। কিছু ভিটামিন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা খেলে কোনো উপকার হয় না। বরং মানবদেহের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে এসব বেনামি  প্রতিষ্ঠানের ভিটামিন বা অন্য ওষুধ ডাক্তারদের না লিখার আহবান জানান তিনি।


 

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিডিএস) শ্রীপুর উপজেলার সভাপতি আলহাজ্জ্ব এম এ সাত্তার বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়াই বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ওষুধ বিশেষ করে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট-ক্যাপসুল স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নিষিদ্ধ এসব ওষুধ সাময়িক সুস্থতা বা শরীরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করলেও তা কিডনি ও মস্তিষ্ককে চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে । গ্রামের অনেক মুদি দোকানেও বিক্রি হয় এসব ভেজাল ওষুধ।

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসনের গাজীপুর জেলার সহকারী পরিচালক ড.আকতার হোসাইন জানান, অনুমোদনহীন কিছু ওষুধ কোম্পানি ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি করছে। এর সঙ্গে যে ওষুধগুলোর কাটতি বেশি, অসাধু ব্যবসায়ীরা সে ওষুধের প্রয়োজনীয় ও নির্দিষ্ট কাঁচামালের পরিবর্তে নিম্নমানের পদার্থ মিশিয়ে আসল ওষুধের প্যাকেট বা নাম দিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করছেন। ব্যবসায়ীরা সাধারণত মুনাফালোভী চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এ ধরনের অপকর্ম করেন। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ ওষুধগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ওষুধ অধিদফতর থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছে না

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ খায়রুজ্জামান জানান, যৌন উত্তেজক এসব ওষুধ সেবনের ফলে চিরদিনের মতো ব্যক্তির যৌনহানিসহ মৃত্যুও ঘটতে পারে। যৌন উত্তেজক পাওয়ার সিরাপ প্রকাশ্যে বিক্রির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর যৌন