banglanewspaper

সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশায় তিন দফা ভাঙনের মুখে পড়েছিল জাতীয় পার্টি। তার প্রয়াণের দুই মাস যেতে না যেতে দলের দুটি ধারার মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধে আরেক দফা ভাঙনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এক পক্ষে প্রয়াত স্বৈরশাসকের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, অন্যদিকে এরশাদের ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের। দুজনই নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করছেন।

এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর চার বছর ছিল রমরমা। তবে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণ আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে দুর্বল হতে থাকে দল। আর এখন পর্যন্ত তিন দফা ভাঙন ধরেছে দলে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। ব্র্যাকেটবন্দী জাতীয় পার্টি গঠন হয় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর আরেক দফা ভাঙন দেখা দেয় এরশাদের দলে। দুই বছর আগে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জাতীয় পার্টি। তবে ভোটের আগে এরশাদ জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নাজিউর রহমান মঞ্জুর এবং এম এ মতিনের নেতৃত্বে আবার গঠন হয় আলাদা জাতীয় পার্টি। তারা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যায়।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বে আরো একটি অংশ আলাদা হয়ে যায় এরশাদকে ছেড়ে। আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করে তারা যোগ দেন বিএনপি-জোটে। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন জাতীয় পার্টির ঘোষণা দেন কাজী জাফর।

ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হলেও ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটে যাওয়া, ২০১৪ সালে বিএনপির ভোট বর্জন এবং গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগের জোটে যাওয়ার সুবাদে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে পারছে জাতীয় পার্টি।

তবে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগেই দলে দুটি ধারা দৃশ্যমান হয়। একটির নেতৃত্বে থাকেন রওশন, অন্যটির এরশাদ। এরশাদ তার জীবদ্দশায় দলের নেতৃত্ব নিজের পরিবারে রাখতে চেয়েছেন, এটা স্পষ্ট। পারিবারিক সম্পত্তির মতোই দলের নেতৃত্ব ছোট ভাই কাদেরের হাতে থাকবে-এটা লিখে গেছেন তিনি।

তবে এরশাদ মারা যাওয়ার পর রওশন অনুসারীরা এরশাদের সেই ‘উইল’ মানছেন না। আর দেবর-ভাবীর দ্বন্দ্ব এখর সরেস আলোচনার খোরাক তৈরি করেছে রাজনৈতিক অঙ্গণে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমন পরিস্থিতির জন্য দলের কিছু নেতার দিকে অভিযোগের ইঙ্গিত তুলেছেন।  বলেন, ‘ম্যাডামকে (রওশন) কিছু বিপদগামী লোক ভুল বোঝাচ্ছে। আমার বিশ্বাস এখন যাই বলুক পরিস্থিতি যাতে দলের অনুকূলে থাকে তিনি শেষে সেই সিদ্ধান্তই নেবেন। আমাদের কাছে রওশন এরশাদ শ্রদ্ধার পাত্র। তার দোয়া নিয়ে চলতে চাই।’

ট্যাগ: bdnewshour24 জাপা ভাঙনের সুর