banglanewspaper

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে দলটির নতুন চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব আর টানাপোড়েনই লেগেই ছিল। এখন জিএম কাদের তো একটু পর আবার রওশন এরশাদ নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদের স্থলাভিষিক্ত করছিলেন। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক অঙ্গনে হাস্যরসের জন্ম যেমন হয়, আবার দলের অভ্যন্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কানাঘুষা ও বিভাজন দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ দুই আসনে নেতৃত্ব নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছুতে পেরেছেন জাপার শীর্ষ নেতারা।  

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর বারিধারার কসমোপলিটন ক্লাবে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের উভয়পক্ষের মধ্যে এক বৈঠকে এ সমঝোতা হয়েছে।

যেখানে এরশাদের ভাই জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান ও স্ত্রী রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এসময় সর্বসম্মতিক্রমে তা সবাই মেনে নিয়েছে। 

রবিবার সকালে জাতীয় পার্টির দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এস এম ফয়সাল চিশতী ও কাজী ফিরোজ রশীদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তারা জানান, দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে আসন্ন রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন- এ নিয়ে বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আজ রবিবার দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। 

এদিকে শনিবার রাতের সমঝোতা বৈঠকে জাপার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জি এম কাদেরের পক্ষে কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও রওশনের পক্ষে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ফকরুল ইমাম, মুজিবুল হক চুন্নু ও ফয়সাল চিশতী প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, বিধি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সংখ্যা ২০ জনের কম হলে বিরোধী দলে থাকা যেকোনও দল সেই মর্যাদা হারাবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিও বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ সব পদই হারাতো। আর তাতে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ দুজনেরই পরাজয় হতো। এই পরিস্থিতিতে তাদের সামনে সমঝোতার কোনও বিকল্প ছিল না। আর এই সমঝোতায় আপাতভাবে জাপার নেতৃত্ব সংক্রান্ত সংকটের সমাধান হলো।

ট্যাগ: bdnewshour24