banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসার গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। চেয়ারম্যান ও তার পরিবার বলছেন, সে গালায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছেন গৃহকর্মীর স্বজনরা। আর পুলিশ বলছে, হত্যা না আত্মহত্যার ঘটনা ময়না তদন্তের পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। 
        
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মঘী ইউপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান হাই সর্দারের স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান হাসনা হেনার বাড়ির গৃহকর্মী ১৫ বছর বয়সী রচনার মৃতদেহ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দিনভর নানা রকম গুঞ্জন আর দেন দরবারের পর বিকালে মাগুরা সদর হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে।

এ সময় লাশ কাটা ঘরের সামনে উপিস্থিত নিহত রচনার ফুফাতো ভাই আক্কাস, মামা আজিজুলসহ অন্য স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, মাগুরা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের বিল্লাল মোল্যার মেয়ে সুমাইয়া খাতুন রচনা ৬-৭ বছর ধরে চেয়ারম্যান হাসনা হেনার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছে। শুক্রবার রাতে রচনার বড় বোন সোনিয়া চেয়াম্যানের বাড়িতে ছোট বোনকে দেখতে যায়, কিন্তু তাকে বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।ছোট বোনের সঙ্গে দেখা না করতে পেরে সোনিয়া বাড়ি ফিরে আসে। শনিবার সকালে চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে তার বাবা ও মামা কে  রচনা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় । পরে সেখানে গেলে গলায় ফাস দিয়ে খাটের উপর এক পা ভাজ করে অন্যটি নিচে দিয়ে বসা অবস্থায় রচনার মৃতদেহ দেখতে পান তারা। এভাবে বসা অবস্থায় গলায় দড়ি দিয়ে মরার বিষয়সহ কিছু কারনে তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারনা করছেন তারা। এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যে রচনার বাবা বিল্লাল মোল্লাসহ অন্য স্বজনরা তখন মাগুরা জজ আদালতের এক উকিলের সাথে পরামর্শ করতে গেছেন।   

ঘটনা জানতে আদালত এলাকায় অবস্থিত উকিলের চেম্বারে গেলে নিহতের বাবা বিল্লাল মোল্লা সেখানে অভিযোগ করেন, সকালে প্রথমে অপরিচিত নাম্বার হতে মেয়ে রচনা তাকে ফোন দিয়ে বলে "আব্বা আমার জন্যি কবর খুড়ো" শেষবার শুধু এই কথাটি বলেই চুপ হয়ে যায় সে। এর প্রায় সাথে সাথেই চেয়ারম্যান ফোন করে রচনা ঘরে দরজা দিয়ে মনে হয় গলায় দড়ি নিতে যাচ্ছে তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো বলে জানিয়ে ফোন রাখার ১ মিনিট পর ২য় বার আবার ফোন দিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানান। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যেয়ে পুলিশের উপিস্থিতিতে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেখতে পান রচনার বাম পা খাটের উপর হাঁটু গাড়া দেওয়া ও ডান পা খাটের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ছোট বেলা থেকে মেয়েটিকে সাবেক চেয়ারম্যান হাই সর্দারের কথায় তার বাড়িতে কাজের জন্য দেয়া হয়। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে মারধর করে বলে মেয়ে রচনা তাকে জানিয়েছে। কিছুদিন আগে জলন্ত খুন্তি দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দেয়ার কারনে ওই বাড়িতে আর যেতেও চাইছিলোনা মেয়েটি। শিগ্রই মেয়ের বিয়ে দিবেন এবং তখন কথা অনুযায়ী ভালো সহযোগিতা পারার আশায় মেয়েকে বুঝিয়ে আবার পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ তার এই পরিনতি দেখতে হলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা বিল্লাল। তিনি এ ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান হাসনা হেনা ও তার ছেলে পলাশকে দায়ী করে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। এবং ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করেন তিনি।    

মঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসনা হেনা বলেন, রচনা প্রায় ৭ বছর আমার বাসায় কাজ করছে। কিন্তু কি কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করছে তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে রচনার পরিবারের পক্ষে উঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জানালেন ঘটনার পর প্রথম পর্যায়ে আবেগ তাড়িত হয়ে বিভিন্ন রকম অভিযোগ করলেও পরে তাদের সাথে সমঝোতার ব্যাপারে কথা হয়েছে। এখন তাদের আর কোন অভিযোগ নেই বলে জানান। সেই সাথে অপমৃত্যুর ঘটনা হলেও প্রথমে মৃত্যু নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠায় ময়না তদন্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন নইতো মরদেহের ময়না তদন্তের প্রয়োজন পড়তো না বলে সহজ সরল ভাষায় জানান তিনি।          

এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তের কাজ সম্পুর্ন করতে মরদেহের সাথে আসা শালিখা থানার এসআই নাসির অপমৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের কাজ করতে আনা হয়েছে বলে জানিয়ে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে অপারকতা প্রকাশ করে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সথে যোগাযোগ করতে বলেন।  

পরে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম ফোনে জানান, মেয়েটি খাটের মশারির স্ট্যান্ডের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানালেন তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা