banglanewspaper

ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক জানান, ছাত্রলীগের কিছু কর্মকাণ্ডে তার দলের প্রধান ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে কমিটি ভাঙার কথা হয়নি।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার রবিবার সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর সাংবাদিকরা তাকে আগের রাগে গণভবনের বৈঠক নিয়ে জানতে চান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠেকে ছাত্রলীগ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন শেখ হাসিনা। তিনি কমিটি ভেঙে দিতেও বলেন।

বৈঠকে থাকা একজন নেতা জানান, শেখ হাসিনা এও বলেছেন, ‘আমি ছাত্রলীগের এমন নেতা চাই না... যাদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও গিয়েছিলেন রাতে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ দেখে আওয়ামী লীগের নেতারা তখন দুইজনকে গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন। তারা গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সামনে পেয়ে সবার সামনেই ‘বকাঝকা’ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘চলে যাও এখান থেকে।’ পরে ছাত্রলীগের দুই নেতাই বেরিয়ে যান।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর প্রায় দেড় মাস পরে ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতির সম্মতিক্রমে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

এই সম্মেলনের আগে ওবায়দুল কাদের ‘নতুন মডেলের ছাত্রলীগ’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনে বিরোধ চাঙ্গা হয়েছে। ছাত্রদল এবং শিবির সংশ্লিষ্ট, বিবাহিত, অছাত্র, চাকরিজীবীদের সংগঠনে পদ দেওয়া, বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে।

সম্প্রতি সংগঠনের ধর্মভিত্তিক কিছু কর্মসূচিকে ঘিরেও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। কটাক্ষ করে ‘ইসলামী ছাত্রলীগ’সহ সংগঠনকে নানা নামে ডাকছেন একাংশের নেতা-কর্মীরা।

তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্রলীগের কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে ক্ষোভ থাকতেই পারে।’

‘গতকাল গণভবনের বৈঠকটি ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙা সংক্রান্ত ছিল না। তাই এ বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বলা ঠিক হবে না।’

‘প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে তারা গেছে আমি তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলব কেন? আমি পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে তাদের ভালো খবরের শিরোনাম হতে পরামর্শ দেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।’

অন্য এক প্রশ্নে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টি যাকে বিরোধী দলের নেতা বানাবে তাকেই স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ।’

ট্যাগ: bdnewshour24 ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ