banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে গর্ভবতী এক নারীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে এক ফার্মেসীর মালিকের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে  উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত লিপি ফার্মেসীর মালিক আবুল হাসেম উজ্জল কিছুদিন আগে নগরহাওলা গ্রামে জমি কিনে বসবাস করে আসছেন।

আহত শাহানাজ আক্তার (১৯) ময়মনসিংহ জেলার কোতুয়ালী থানার জাফর মন্ডলপাড়া গ্রামের শহিদুল্লাহ’র মেয়ে। বর্তমানে উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে সিরাজুল হক মাতব্বরের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

গত ৮ মাস আগে জামালপুর জেলার মেলন্দা উপজেলার মাহাম্মদপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রাসেল মিয়া (২২) এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী নিয়ে এখানে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করেন।

আহত শাহানাজ বলেন, চার মাস যাবৎ মাসিক না হওয়ায় এ বিষয়ে পরামর্শের জান্য একদিন আগে জৈনাবাজার লিপি ফার্মেসীর উজ্জল মিয়ার কাছে জানতে গেলে,বিষয় গুলো শোনে উজ্জল মিয়া আমাকে এম আর কিট নামক একটি পিল দিয়ে দেন। ওই পিল খাওয়ার পর থেকে আমার কোমরে ও তলপেটে ব্যাথা শুরু হয়। আজকে সকাল থেকে  অনেক রক্ত খরণ শুরু হয়। এতে আমি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে যাই। পরে বিকেলে গর্ভপাত হয়ে যায়। 

শাহানাজের পিতা শহিদুল্লাহ বলেন,আমার মেয়ে চার মাসের সন্তান পেটে। আমার মেয়ের স্বামী দোকান্দারকে বেশি টাকা দিয়ে এই কাজ করেছে। ঔষধ বিক্রেতা জেনে শোনে ওই ঔষধ দেওয়ার কারনে সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। দোকান্দার উজ্জল যদি ওই ঔষধ না দিতো তাহলে আজ আমার মেয়ের এ অবস্থা হতোনা,আমার মেয়ে মরার পথে।

লিপি ফার্মেসীর মালিক আবুল হাসেম উজ্জল বলেন, ওই মহিলা আমার কাছে বলেন দুই মাস যাবৎ মাসিক হয়না,তার কথা শোনে আমি এম আর কিট নামক পিল দিয়েছি। কিন্তু মহিলার পেটে সন্তান আছে কিনা তা আমি জানি না এবং তিনি আমাকে বলে নাই। তবে এরকম হয়ে থাকলে আমি সকল চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে দিবো। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মইনুল হক খান জানান,গর্ভপাত করাতে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করিয়ে রিপোর্ট দেখিয়ে ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু আল্ট্রাসোনোগ্রাফি না করিয়েই কোন ঔষধ খাওয়ানো যাবে না । না জেনে, না বুঝে খাওয়ানোর কারনেই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে । এই ওষুধ সুনিশ্চিত গর্ভপাত পিল,এটা মাসিক না হওয়ার পিল নয়।

উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফিন জানান,পরিক্ষা-নিরিক্ষা বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফর্মেসীর মালিকের চিকিৎসা প্রদান ও এমআর কিট নামক পিল বিক্রি কারা যাবেনা। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে আইনানুক ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর