banglanewspaper

রোহিঙ্গা ও সাজাপ্রাপ্ত দাগি আসামিদের ১০ হাজার টাকায় জন্মনিবন্ধন সনদ বানিয়ে দিত তারা। এমনকি এর মাধ্যমে পাসপোর্ট করে দিচ্ছিল চক্রটি- এমন একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

আজ বুধবার বেলা তিনটার পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এলাকায় র‌্যাব-২ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এ সময় উদ্ধার করা হয় সিটি কর্পোরেশনের ভুয়া জন্মনিবন্ধন সিল, সনদের হার্ড কপি এবং সফট কপির হার্ডডিস্ক।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম, সাইফুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, নেত্রকোনার একটি ইউপি তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া, ঢাকার একটি সিটি কর্পোরেশনের মাঈন উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর।

র‌্যাব-২ কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদ তৈরি করে দিত চক্রটি। এর সঙ্গে যোগসাজশ ছিল ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগি অপরাধীরা পাসপোর্ট করার সুযোগ পেত।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘অনেক সময় বয়স কম-বেশি দেখিয়ে পাসপোর্টের জন্য কেউ আবেদন করলে তাদের জন্মসনদের তথ্যভান্ডারে থাকা তথ্যের মিল পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেত। অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাম, বাবার নাম, বয়স, ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করে বিমানবন্দরে ধুলো দেয়। তাদে আটকানো যায় না। এভাবে ভুয়া তথ্য দিয়ে দেশের বেশ কটি এলাকা থেকে ১৩-১৪ জন রোহিঙ্গা জন্মসনদ নিয়েছে।'

এই জন্মসনদ তৈরি চক্রের ছয়জনকে আজ গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে র‌্যাব-২ কোম্পানি কমান্ডার বলেন, তাদের কাছ থেকে জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক পরীক্ষা করে প্রচুর জন্মসনদ ও অনেক হার্ড কপি মিলেছে। সংখ্যাটি ২৫ হাজারের বেশি। তারা  রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ তৈরি ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করছিল।

ট্যাগ: bdnewshour24 জন্মনিবন্ধন রোহিঙ্গা