banglanewspaper

দীর্ঘদিন ধরে একটি অফিসে কাজ করছেন। সেখানে আপনার দায়িত্বও অনেক। আপনার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভালোমন্দ। অথচ নতুন চাকরি পেয়ে আপনি হঠাৎ করেই আগের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

এতে বেকায়দায় পড়ল আপনার প্রতিষ্ঠানটি। হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কোম্পানির হয়তো কিছুটা ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু তা চিরস্থায়ী হয়। মনে রাখবেন পৃথিবীতে কারও জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেমে থাকে না।

যারা হুট করে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তাদের এমন আচরণকে মানবসম্পদ পরামর্শকরা নিজের পেশার সঙ্গে দূরত্ব আর ব্যক্তিত্বের অধঃপতন হিসেবেই দেখেন।

তারা বলেন, যেকোনো ব্যক্তিকেই চাকরি ছাড়ার আগে কিছু বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত। হুটহাট সিদ্ধান্তে চাকরি পরিবর্তন শুধু নিজেরই ক্ষতি নয়, কর্মস্থলের সার্বিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের তথ্যমতে, যেসব কর্মী তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে চাকরি ছাড়েন, তারা সারাজীবন সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয়বার কর্মস্থল বদলাতে পারেন। তাদের নামে অফিসে ঊর্ধ্বতনদের সন্দেহের মাত্রা একটু বেশিই থাকে। তাই চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় ভাবা উচিত। জেনে নিন চাকরি ছাড়ার আগে করণীয় কী?

চাকরি ছাড়ার সময় যা করবেন

# প্রায় প্রতিটি অফিসেই চাকরি ছাড়ার কয়েকদিন আগে মানবসম্পদ বিভাগকে অবহিত করার নিয়ম চালু থাকে। এ সময় মানবসম্পদ বিভাগ নতুন কর্মী নেওয়াসহ আপনার প্রাপ্য বেতন-বোনাসের হিসাব করার সুযোগ পায়।

# আপনার অর্জিত ছুটি আর বেতন-বোনাস-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে এ সময় আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আর মানবসম্পদ বিভাগকে অবহিত করুন।
# আর্থিক হিসাবনিকাশের দিকে খেয়াল রাখুন। বিল-বকেয়া কিংবা ছোটখাটো সব আর্থিক হিসাব মিটিয়ে ফেলুন।

# আপনার নামে অফিস থেকে বরাদ্দ হওয়া ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস, গাড়ি-মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে লিখিত ছাড়পত্র নিয়ে নেবেন।

# পুরোনো অফিস থেকে আপনার অব্যাহতিপত্র আর অভিজ্ঞতার সনদ মানবসম্পদ বিভাগ থেকে নিতে ভুলবেন না। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অভিজ্ঞতা সনদ বেশ গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

# অফিসে ব্যবহৃত কম্পিউটার থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি ও ফাইল মুছে ফেলুন। অন্য প্রয়োজনীয় ফাইলসমূহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দিন।

# আপনার অফিসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন বস্তু যেমন বই, ছবির ফ্রেম, অ্যাকুরিয়াম কিংবা শখের কলমদানি, মগ, গ্লাস সরিয়ে ফেলুন। অফিসের লাইব্রেরি থেকে বই নিলে তা ফেরত দিন।

# চাকরি ছাড়ার শেষ দিন পর্যন্ত অফিসের নিয়মকানুনকে শ্রদ্ধা করুন। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েই প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী পুরোনো কর্মস্থলে অসৌজন্য ও বিশৃঙ্খল আচরণ করেন।

# চাকরি ছাড়ার সময় অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে পুরোনো রাগ-অভিমান কাটিয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখুন।

# সবশেষে, পুরোনো কর্মস্থলের সবাইকে ই-মেইলে কিংবা সরাসরি ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন উদ্যমে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করুন।

যা করবেন না

# পুরোনো অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিংবা দলিলপত্র নতুন অফিসে কাজে লাগবে, এমনটা ভেবে নিজের সঙ্গে নেওয়া কখনোই উচিত না।

# পুরোনো সহকর্মী কিংবা অফিসের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ কিংবা বাজে আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

# যে কোম্পানি ছেড়ে যাচ্ছেন সে কোম্পানি বা আপনার সেখানকার বস সম্পর্কে কোনো বাজে কথা বলবেন না। এমনকি আপনার সহকর্মীরা যদি আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসও করে তাহলেও কিছু বলবেন না। কেউ হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারে কোম্পানি বা বসের সঙ্গে কোনো ঝগড়া বা দ্বিমতের কারণেই কি আপনি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন? এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলুন, ‘আমি বর্তমান চাকরির চেয়ে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছি যা আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না।’

# আপনার নতুন কর্মস্থলে চাকরির সুযোগের ব্যাপারে পুরোনো কর্মস্থলের সহকর্মীদের কিছুই বলতে যাবেন না। যদিও আপনার নতুন কর্মস্থলের বস আপনাকে ইতিমধ্যেই সেখানকার লোভনীয় বেতন-বোনাস সম্পর্কে কিছু বলে থাকেন বা আপনার বন্ধুদেরকেও সেখানে নিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত করে থাকেন! এ ধরনের কাজ একটু ধৈর্য ধরেই করুন এবং এখনই নতুন কর্মস্থলের জন্য কর্মী নিয়োগের তৎপরতা শুরু করবেন না।

# নতুন চাকরি সম্পর্কে পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প অনেক সময় অন্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এ আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

# নতুন জায়গায় যোগদানের আগের কয়েকটা দিন পুরোনো অফিসে নতুন অফিসের কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকুন।

সূত্র: ফোর্বস

ট্যাগ: bdnewshour24 চাকরি