banglanewspaper

জম্মু-কাশ্মিরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা শেখ নাসিরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীর কাছ থেকে একটি একে-৪৭ ছিনিয়ে নিয়েছে তিন চার জন উগ্রপন্থি। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জম্মু অঞ্চলের কিশতোর জেলায় শেখ নাসিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে জম্মু-কাশ্মিরে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বরাতে এ খবর জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।

কিশতোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আংরেজ সিং রানা হিন্দুস্থান টাইমসকে জানান, পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকেই কিশতোর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। তিন চার জন উগ্রপন্থি এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তাদের আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করতে বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশী চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কাথুয়ার লাখানপুর এলাকা থেকে উগ্রপন্থি গ্রুপ জশ-ই-মুহাম্মাদের তিন সদস্যকে আটক করেছিল স্থানীয় পুলিশ।

এ জেলার একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হিন্দুস্থান টাইমসকে জানিয়েছেন, কিশতোর জেলার উপরিভাগে ঘন বনাঞ্চল থাকায় উগ্রপন্থিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এ অঞ্চল। এই পাহাড়ি জেলার যত উপরের দিকে উঠতে থাকা যায় ততই ঘন বন, বরফ ঢাকা পাহাড় আর প্রাকৃতিক গুহা পাওয়া যায়। এ রকম একটি ভৌগলিক অবস্থানের ভেতর লুকিয়ে থাকা উগ্রপন্থিদের খুঁজে বের করা দূরহ ব্যাপার।

এছাড়াও জম্মু অঞ্চলের কিশতোর আর দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ এই দুই জেলাকে সংযুক্তকারী সিনথান পাস এলাকাতেও উগ্রপন্থিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

উল্লেখ করা যায় যে, এক দশক আগে কিশতোর জেলাকে সরকারিভাবে সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে সন্ত্রাসীদের হাতে বিজেপি নেতা অনিল পরিহার ও তার ভাই অজিত পরিহার খুন হওয়ার পর এই পরিবেশ বদলে যায়।  এ বছর এপ্রিলে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আরএসএস নেতা চন্দ্রকান্ত শর্মা। এরপর মে মাসে এক সন্ত্রাসীদের সাথে এক এনকাউন্টারে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন কিন্তু সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই কিশতোর জেলা থেকেই জুলাই মাসে উগ্রপ্নথি গ্রুপ লস্কর-ই-তায়্যিবার সদস্য জামাল দীন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে।

ট্যাগ: bdnewshour24 কাশ্মির