banglanewspaper

শরীরের মেদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক চেষ্টার পরও কিছুতেই কমছে না। এমন অবস্থা হওয়ার কারণ হলো মেদ কমাতে আপনি অনেক চেষ্টা করলেও যে খাবার এটিকে বৃদ্ধি করছে সেটি খাওয়া বন্ধ করছেন না। যার কারণে চেষ্টার সঠিক ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সেক্ষেত্রে লবন বেশি খাওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অনেকেই ধরে নেন, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ যখন নেই, কিডনির সমস্যাও নেই, তাহলে আর লবন নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই- আপনার এই ধারণাটাই ভুল।

চিকিৎসকদের মতে, ওজন নিয়ে যখন ভাবেন, তখন লবন নিয়েও ভাবতে হবে৷ বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অতিরিক্ত লবন শরীরে পানির সঙ্গে মিশে শরীরে পানি জমিয়ে দেয়। ফলে ওজন বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লবন খুবই ভয়ানক খাবার। এক চিমটি কম দিলে যেমন স্বাদ ঠিক হয় না, তেমনই এক চিমটি বেশি দিলেও শরীরের ক্ষতি করে।

অতিরিক্ত লবন যেসব ক্ষতি করে

খাবারের সঙ্গে লবন না খেলে বা রান্নায় কম দিলেই যে সমাধান হবে, এমন নয়৷ কারণ প্রায় সব প্রসেসড ও ফাস্ট ফুডে লবনের মূল উপাদান সোডিয়াম থাকে প্রচুর৷ নিয়মিত এই সব খেলে, ওজন বাড়তে পারে৷

শরীরে পানি একা জমতে পারে না। লবনের সঙ্গে মিশে জমে। যত লবন খাবেন, তত পানি জমবে৷ ওজনের ওপর এর প্রভাব আছে৷ কম লবন খেলে এই পানি নিজেই বেরিয়ে যেতে শুরু করে৷

নোনতা খাবার বেশি খেলে খিদে বাড়ে৷ ফলে ভুলভাল খাওয়াদাওয়া বাড়ে। ওবেসিটি ডেকে আনতে এই স্বভাব মারাত্মক ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবন খেলে শরীরে বেশি ইনসুলিন তৈরি হয়৷ বাড়ে চর্বি সঞ্চয়ের হার৷

কী করণীয়

রেডি–টু–ইট ফুড, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস ও সসে প্রচুর লবন থাকে৷ এগুলো নিয়মিত খাবেন না৷ চিজ যদি নিতান্ত খেতেই হয়, শেডার চিজের বদলে খান মোজারেলা৷ ক্যালোরি না কমলেও লবনটা অন্তত কমবে৷

আচার, কাসুন্দি, মেয়োনিজ ঠাসা থাকে লবনে৷ যথাসম্ভব বর্জন করুন৷ না পারলে লেভেলে ‘লো সোডিয়াম’ বা ‘নো অ্যাডেড সল্ট’ লেখা থাকলে সেগুলো খান। লবন মেশানো বাদাম কিনবেন না৷ রাশ টালবন মুড়ি–চানাচুর, পাপড়, পকোরা, চিপসেও। পিৎজা, পাস্তায় বেকন টপিংয়ের বদলে ভেজিটেবল টপিং দিন৷ সঙ্গে আরও খানিকটা চিজ বা হোয়াইট সস চেয়ে বসবেন না৷ সপ্তাহে বেশির ভাগ সময় কম লবনে বানানো ঘরের খাবার খান৷ লো ফ্যাট দুধ–দই–ছানা, ফল, শাক–সব্জি, মাছ, মাংস, ডিম রাখুন খাবারের তালিকায়৷

লবন কমাতে গিয়ে শরীরে যেন পটাশিয়ামের ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন৷ কাজেই কলা, আলু, মিষ্টি আলু, রাজমা, ওটস, দুধ ইত্যাদি খান নিয়মিত৷

ট্যাগ: bdnewshour24 মেদ