banglanewspaper

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ‌‌‘মনস্টার’ বা (দানব) বলে অ্যাখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তাদের ছাত্রলীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৪ সেপ্টম্বর) দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। একাধিক সূত্র সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসাবে শোভন-রাব্বানীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি ওদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানালাম, কিন্তু ওরা পদ পাওয়ার পর ‘মনস্টার’ হয়ে গেছে।’ এরপরই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির এক নং সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং এক নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সূত্র মতে, কার্যনির্বাহী সংসদের পুরো বৈঠকে কোনো নেতাই ছাত্রলীগের প্রসঙ্গটি তোলেননি। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয় আলোচনার পর একদম শেষের দিকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয়ে কথা তোলেন।

তিনি উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আর কারও কিছু বলার আছে কি না? তখনও সবাই চুপ করে থাকলে তিনি নিজেই ছাত্রলীগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন।

শেখ হাসিনা শোভন-রাব্বানী সম্পর্কে বলেন, তিনিই তাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সবশেষ তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের পার্সেন্টেস চাইতে গিয়েছিল। ভিসি সেটাতে রাজি না হয়নি। উল্টো ভিসিকে তারা দোষারোপ করার চেষ্টা করেছে। তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছে। এরা (শোভন-রাব্বানী) আসলে মনস্টার হয়ে গেছে। এদের আর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকার দরকার নেই। এরপরই তিনি শোভন-রাব্বানীকে অব্যাহতি দিয়ে প্রথম সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা দেন।

এরপর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আওয়ামী লীগের সাধাররণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শোভন-রাব্বনীর জায়গায় সংগঠনের এক নং সহসভাপতি ও এক নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত, গত সাত সেপ্টম্বর দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা তাদের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলেন। পরে শোভন-রাব্বানীর গণভবনে ঢোকার স্থায়ী পাসও বাতিল করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শোভন-রাব্বানীকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধানমন্ত্রী