banglanewspaper

জম্মু-কাশ্মির ইস্যুতে টালমাটাল পাক-ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। দিল্লি আর ইসলামাবাদের পাল্টাপাল্টি কথার লড়াইয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের শঙ্কা- পাক-ভারত যুদ্ধটা তবে যেকোনও সময় বেঁধে যেতে পারে। ভারতীয় সেনারা কাশ্মিরের মুসলিমদের ওপর যে ধরনের অকথ্য নিপীড়ন চালাচ্ছে তাতে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে। 

কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরাকে দেয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সাক্ষাৎকারেও তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।  

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু এখন কাশ্মির। আর ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 

ইমরান খান বলেন, ‘কাশ্মির ও নিজেদের স্বাধীনতার জন্য যদি যুদ্ধ বেঁধে যায় তবে মৃত্যু পর্যন্ত যুদ্ধ করবে পাকিস্তান। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হলে তাতে পুরো বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের সামনে এখন খুব অল্প পথই খোলা আছে।’

নতুন করে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে ইসলামাবাদ পারমাণবিক অস্ত্র প্রথম ব্যবহার করবে নাকি প্রতিঘাত হিসেবে ব্যবহার করবে- এ বিষয়ে পাকিস্তানের যুদ্ধনীতির কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘আমি দ্বিধাহীনভাবে শুধু এটুকু বলতে পারি- পাকিস্তান কখনও আগে যুদ্ধ শুরু করবে না। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি নিজে শান্তিকামী, যুদ্ধবিরোধী। যখন দুটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হয়, আর তা যদি প্রচলিত যুদ্ধও হয়- তবু সেটি পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড়জোর কাশ্মিরে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংগঠনের শরণাপ্ন হতে পারি। কাশ্মির ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বারস্থ হয়েছি আমরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাশ্মির ইস্যুতে হালকা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা উদাসীন।’

ইমরান খান বলেন, ‘১০০ কোটি মানুষের দেশ ভারত। আন্তর্জাতিক দুনিয়া কাশ্মির ইস্যুতে কথা বলছে না, কারণ তারা ভারতের বিশাল অর্থনৈতিক বাজার হারাতে চায় না। কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারছে না, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ শুধু হলে শুধু উপমহাদেশই নয়, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে গোটা বিশ্ব বাণিজ্য।’

কাশ্মির ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘দুর্ঘটনাক্রমে যুদ্ধ’ শুরু হয়ে যেতে পারে- পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ইমরান খান বলেন, ‘এখন ভারতীয় সেনারা কাশ্মিরে বড় অথবা ছোট মাপের গণহত্যা চালাচ্ছে। সেখানকার মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। নাৎসি জার্মানির পর এমন নিপীড়ন আরও কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

গেল ৬ সপ্তাহে কাশ্মিরের ৮০ লাখ মুসলিম অবরুদ্ধ দাবি করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাশ্মিরে অবৈধ দখলদারিত্ব বাড়ানো ও কাশ্মিরের গণহত্যার দিক থেকে সবার দৃষ্টি সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে ভারত। তারা সন্ত্রাসে সমর্থন দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনী আত্মঘাতী হামলার শিকার হওয়ার পর একইভাবে পাকিস্তানকে দায়ি করেছিল দিল্লি। এমনকি পাকিস্তানের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছিল।’

ইমরান খান মনে করেন, কাশ্মিরে এখন যে নিধনযজ্ঞ চলছে তাকে জনগণ যখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠবে তখন তাদের দমাতেও একই পথ বেছে নিতে পারে ভারত। তখনও হয়তো পাকিস্তানকেও দায়ি করা হবে। যার মূল উদ্দেশ্য হবে- কাশ্মিরে গণহত্যা থেকে বিশ্বের চোখ সরিয়ে নেয়া।

কাশ্মির উত্তেজনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের বিষয়ে ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘সমঝোতা ও শান্তি প্রস্তাব দেয়ার জন্য আমি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই। কাশ্মির ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চাইলে নিজেদের ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।’

ট্যাগ: bdnewshour24 ইমরান খান