banglanewspaper

‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ দায়ে সংগঠন থেকে পদ হারানোর একদিন বাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের ‘ভুলত্রুটির’ জন্য ‘অনুতপ্ত’ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘মমতাময়ী নেত্রী’ সম্বোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, ‘আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি, আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।’

ক্ষমা চেয়েছেন অগ্রজ ও অনুজদের কাছেও; বলেছেন, ‘আপনাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির পুরো মেলবন্ধন ঘটাতে পারিনি বলে আপনাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।’

গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বেরিয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান একই কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য হন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।   

সংগঠনকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ মাথায় থাকা শোভন ও রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এর মধ্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দেন গোলাম রাব্বানী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সরে যেতেই হয়।

গতকাল রোববার সারা দেশেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি। দুপুরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যায় যেই করুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, টেন্ডাবাজি ও চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমূর্তি কেউ ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদ হারানোর পর গতকাল ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি শোভন-রাব্বানীকে। সাংবাদিকরা মোবাইলে চেষ্টা করেও তাঁদের পাননি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে গোলাম রাব্বানী একটি পোস্ট দেন। তাতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি। 

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমিও ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। তবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে আবেগ-ভালোবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী 'গর্হিত কোনো আপরাধ' করিনি। আনীত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক আর অতিরঞ্জিত, সময় ঠিক বলে দেবে।”

নিজের আকুতি তুলে ধরে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘প্রাণপ্রিয় আপা, আপনি আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের সুযোগ্য তনয়া, ১৮ কোটি মানুষের আশার বাতিঘর। আপনার দিগন্ত বিস্তৃত স্নেহের আঁচল, এক কোণে যেন ঠাঁই পাই। আপনার ক্ষমা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাকিটা জীবন চলতে চাই।’

ট্যাগ: bdnewshour24 রাব্বানী ছাত্রলীগ