banglanewspaper

মন খুলে খেলা। ভয় ডরহীন ব্যাটিং করা। এমনসব শব্দ এখন বেশ শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তার দলের কাছে আহবান জানিয়েছেন- খেলো, সাহস নিয়ে। জয় আসবেই।

সেই ফর্মূলার ক্রিকেট খেলেই জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ চট্টগ্রাম পর্বে তিনজাতি টি- টোয়েন্টির মোকাবেলায়। এই ম্যাচে শুধু টসেই জিতেছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিং- বোলিং-ফিল্ডিং-ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ, বাকি সবকিছু জুড়ে বাংলাদেশ প্রতাপ দেখানো দাপুটে দল। আর এই ম্যাচের নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬২ রানের ইনিংসে তার ছক্কার মার ৫টি। ২৩ ম্যাচ পরে টি- টোয়েন্টিতে হাফসেঞ্চুরি পেলেন মাহমুদউল্লাহ।

রায়ান বার্লের স্পিনে আগের বলেই ক্যাচ তুলে ফিরে গেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ তখন ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারানো দল। উইকেটে এসে গার্ড নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ননস্ট্রাইক প্রান্তে তখন মুশফিকুর রহিম। লেগস্পিনার রায়ান বার্ল তার সেই সফল ওভারের তৃতীয় বলটি করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। অফস্টাম্পের লাইনে পড়া বলে ব্যাটে সপাটে চালালেন মাহমুদউল্লাহ। বল সোজা লং অফের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে! ছক্কা!

সেটা ছিলো ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খেলা প্রথম বল। আর তাতেই ছক্কা! প্রথম বলের এই শটে মাহমুদউল্লাহর নামের পাশে স্কোরবোর্ডে যোগ করলো ছয় রান। আর তার ব্যাটে যে শক্তি যোগালো তার নাম-আত্মবিশ্বাস!

সেই শক্তির জোরেই দলের ১৭৫ রানের ইনিংসের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিটা তুলে নিলেন মাহমুদউল্লাহ। মাত ৪১ বলে ৬২ রানের তার এই হাফসেঞ্চুরি অনেক প্রশ্নের সমাধান করে দিলো।

এক; বাংলাদেশকে বড় রানের পথে নিয়ে গেল।
দুই; মন খুলে খেলার সাহস যোগালো।
তিন; সিনিয়রদের ফর্মে ফেরার সুখবর দিল।
চার; এক লেগস্পিনারের খোঁজ পাওয়া গেল।
পাঁচ; পাঁচ বোলার নিয়ে টি- টোয়েন্টির একাদশ সাজানোর উপায় জানাল।

ম্যাচসেরার ট্রফি হাতে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর গলায়ও এতোকিছু পাওয়ার তৃপ্তি শোনা গেলো-‘ড্রেসিংরুমে বসেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি মাঠে নেমে প্রথম বল থেকেই মারবো। লিটন খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আমাদের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়েছে। মুশফিকও ভাল ব্যাটিং করেছে। দলের জন্য আমি অবদান রাখতে পারায় খুশি। আমাকে আরো বেশি ধারাবাহিক হতে হবে। পরের ম্যাচে আমাদের সেরা পারফরমেন্স ঢেলে দিতে হবে।’

বাংলাদেশের পরের দুই ম্যাচ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে-আফগানিস্তান। ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে আফগাস্তিানের বিপক্ষে লড়াই। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচেও প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।
 
২০ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে সেটা ফাইনালের আগে বাংলাদেশ দলের জন্য বড় একটা মোমেন্টাম তৈরি করবে-বলছেন অধিনায়ক সাকিবও।
 
আফগানিস্তান এবারের বাংলাদেশ সফরে এখনো কোন ম্যাচে হারেনি। পরের দুই মোকাবেলায় এই হিসেবটা বদলে দিতে প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাহমুদউল্লাহ