banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ কখনো মসজিদে মোয়াজ্জিনের আযান অর্ধেক, আবার কখনো ইমামের নামাজ অর্থেক ঠিক এমন মুহূর্তেই চলে যায় বিদ্যুৎ। তাছাড়া জুমার নামাজের সময়ও অনেক সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা যায়। কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী এলাকার ষাটোর্দ্ধ জগলুল মিয়া।

২০ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) উপজেলার বরমী, গোসিংগা ও পৌর এলাকার একাধিক এলাকায় নামাজের সময় লোডশেডিংয়ের এমন খবর পাওয়া গেছে।

 

তবে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের দাবী পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন আর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নেই। বিদ্যুৎ ইন্টারাপশন বা অটোমেটিক উপায়ে হয়ে থাকে।

বরমী ইউনিয়নের সোনাকর হাজীবাড়ী জামে মসজিদের মুসল্লী ফরহাদ মোড়ল জানান, ‘এ এলাকাতেও নামাজের মুহুর্তে বিদ্যুৎ চলে যায়।’ বিষয়টি নিয়ে অনেক মুসল্লীদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

বাজার মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লী কমুর উদ্দিন জানান, ‘এ মসজিদের ছাদ নিচু হওয়ায় রোদের তাপমাত্রায় গরম তীব্র হয়। কিন্তু বেশীর ভাগই আসরের নামাজ ও  মাগরিবের নামাজের আযান বা নামাজ শুরুর দিকেই বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা দেয়। এতে মুসল্লীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

লোহাগাছ সরকারবাড়ী জামে মসজিদের মুসল্লী আরফান সরকার জানান, ‘অন্যান্য সময় লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও নামাজের মুহুর্তে বিদ্যুৎ না থাকাটা দুঃখজনক ব্যাপার। নামাজরত মুসল্লীদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খেয়াল রাখা উচিৎ।’

শ্রীপুর বাজার মাদরাসাতুর রহমান ও এতিমখানার মুহতামিম  মুফতি মাহমুদুল হাসান সজল জানান, ‘অন্যান্য সময় লোডশেডিং থাকলেও বেশীর ভাগ সময়ই ইবাদাতের মুহুর্তে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশী থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।’ 

শ্রীপুর পাকা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওনা মুফতি মামুনুর রশীদ জানান, ‘মসজিদে নিজস্ব জেনারেটর রয়েছে। তবে বেশির ভাগ সময়ই নামাজ চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। সে মুহুর্তে তো আর জেনারেটর চালু করা সম্ভব নয়। গতকালও মাগরিবের নামাজ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল।’

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সে উন্নয়নের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নৈতিক দায়িত্ব।’

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার জানান, ‘ইবাদতের মুহুর্তে বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে একাধিক বার অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে আমার ফেসবুকে কয়েকটি স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম।’

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম হুমায়ুন কবির কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের লাইনে এখন আর কোন লোডশেডিং নাই। তবে ইন্টারাপশন রয়েছে। কেন না লাইনে কোথাও কোন দুর্ঘটনা দেখা দিলে ইন্টারাপশন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সেক্ষেত্রে শুধু ইবাদতের সময়ই হবে তা কিন্তু ঠিক নয়।’

ট্যাগ: bdnewshour24 ইবাদত শ্রীপুর