banglanewspaper

আগামী ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিশ্চিত জেতার মতো পরিবেশ থাকলেই কেবল নির্বাচন যেতে আগ্রহ দেখাবে সরকারি দল। অন্যথায় সীমানা জটিলতাকে ইস্যু দেখিয়ে পিছিয়ে যেতে পারে দুই সিটির ভোট।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তারা সময় হলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তবে আমি যতটুকু জানি ডিসেম্বরে শিডিউল ঘোষণা হতেও পারে।

সামনে আওয়ামী লীগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। বিশেষ করে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। পরের বছরে মুজিববর্ষ। এই দুই ইস্যুতে ব্যস্ততা বেড়ে যাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিটি নির্বাচনে যাওয়ার আগে অনেক কিছু মাথায় নিয়েই নামবে আওয়ামী লীগ। কেননা ঢাকার নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই বিএনপির হাতে তুলে দিতে রাজি নয় সরকারি দল। তাই ভেতরে ভেতরে অনানুষ্ঠানিকভাবে চলছে মেয়র নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজার কাজ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সোর্স থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট গেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে। ওই রিপোর্টেই মূলত মেয়র-কাউন্সিলরদের ভাগ্যের শিঁকে ছিঁড়বে। সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রত্যেকের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে।

বর্তমানে দুই সিটির মেয়রসহ আওয়ামী লীগের যেসব কাউন্সিলর রয়েছেন তাদের পাঁচ বছরের কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কাউন্সিলরদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, কাজে নিষ্কৃয়তা পাওয়া যাবে তাদের আর ওই পদে রাখতে চায় না আওয়ামী লীগ।

এছাড়া কাউন্সিলর হওয়ার পর যারা এলাকার উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে পারেননি তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা নতুন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে আগ্রহী তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে পরিবারের কে কোন দল করে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কার কতটুক অবদান সব মিলিয়ে বিবেচনা করা হবে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খোঁজ খবর নিয়ে তারপরই চূড়ান্ত হবে কাউন্সিলর প্রার্থী। যেহেতু গত নির্বাচনের মতো এবারও দলীয় ব্যানারে নির্বাচন হবে। তাই দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে চায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সময় পেয়েছেন খুবই কম। এই সময়ে তিনি কিছু কাজ দেখিয়ে আস্থা অর্জন করেছেন। আর দক্ষিণের মেয়র তো পুরো ৫ বছর সময় পেয়েছেন। সে যদি ভালো কাজ করেন তাহলে তার ব্যাপারে দল দেখবে। আসলে মানুষের কাছে যে বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই দেওয়া হবে।

২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্তের পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই মেয়র ওই বছর ৬ মে শপথ নেন। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যে কোনো সময় ভোট করার বিধান রয়েছে।

হিসেব মতে চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হবে ১৮০ দিনের সময়সীমা। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত যে কোন সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যেহেতু আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার ঘোষণা হয়েছে তাই অন্তত কাউন্সিলের আগে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষ শুরু হবে। তাই এ সময়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনাও কম। আর ফেব্রুয়ারিতে যেহেতু এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে তাই সেই সময়েও নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সব কিছু মিলিয়ে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা জানুয়ারির মধ্যে উপযুক্ত সময়।

আইন অনুযায়ী নির্বাচনের পর মেয়রদের প্রথম কমিশন সভা থেকে তাদের টাইমলাইন ধরা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রথম সভা হয় ২০১৫ সালের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে ও চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় একই বছরের ০৬ আগস্ট। সেই হিসাবে ঢাকা উত্তরের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত, দক্ষিণে ওই বছরের ১৬ মে পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে।

 

ট্যাগ: bdnewshour24 আওয়ামী লীগ