banglanewspaper

বাংলাদেশ দলের অনুশীলন তখন শেষ। কড়া দুপুরের ঝাঁজ মাথায় নিয়ে একজনকে ঠিকই দেখা গেল ইনডোরের দিকে ছুটছেন। হাতে ব্যাট। পায়ে প্যাড। তামিম ইকবাল!

বেশ ঝরঝরা হয়েছেন লম্বা বিশ্রামে। ক্রিকেট থেকে বাইরে ছিলেন বেশ কিছুদিন। বিদেশেও সময় কাটিয়েছেন। দ্রুতই আবার মাঠে ফেরার প্রস্ততি নিচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছেন।

নভেম্বরে ভারত সফরের জন্য নিজেকে তৈরি করছেন তামিম ইকবাল। তবে  সোমবার হঠাৎ করে আরো আগে মাঠে ফেরা যায় কিনা- তেমনই এক প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। সেই প্রস্তাবে বলা হলো-মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে খেলার!

কৌতুকের ছলে নয়। সিরিয়াস ভঙ্গিতেই তামিম ইকবাল এই প্রস্তাব পান। আর প্রস্তাবটা তাকে দিলেন খোদ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু!

প্রস্তাবের প্রসঙ্গে মিনহাজুল সাংবাদিকদের বলেন-‘আমরা তাকে ফাইনালে খেলার প্রস্তুাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তামিম জানিয়েছে, সে এখনো খেলার জন্য প্রস্তুত নয়। মাত্র দুই তিনআগে সে ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে এটা তার জন্য যথেষ্ট নয় বলে আমাদের জানিয়েছে তামিম।’

বাংলাদেশের এই দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি?

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘ক্রিকেট বিজ্ঞানী’ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দলের সমস্যা তো শুরুতেই। ওপেনিংটাই জমছে না দলের। ওপেনাররা পারছেন না। নতুন-পুরনো অনেক ওপেনাররা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেউ পারছেন না। সেজন্যই বাধ্য হয়ে নির্বাচকরা ফাইনাল ম্যাচটা তামিমকে খেলে দেয়ার প্রস্তাব দেন!

বিশ্বকাপটা তামিম ইকবালের ব্যাট হাতে মোটেও ভাল কাটেনি। ৮ ম্যাচে মাত্র ১টি হাফসেঞ্চুরি পান তিনি। শ্রীলঙ্কায় অধিনায়ক হিসেবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ তার কেটেছে ভয়াবহ ব্যর্থতায়। এই তিন ম্যাচে তার মোট রান ২১!

ফর্ম উদ্ধারের জন্য কিছুদিন ক্রিকেট থেকে দূরে থেকে বিশ্রাম নেয়ার পরিকল্পনা করেন তামিম ইকবাল। বোর্ডের কাছে ছুটি চান। ছুটি তার মঞ্জুর হয়। তামিমকে ছাড়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ও ত্রিদেশিয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ।

টেস্ট এবং টি- টোয়েন্টি সিরিজের এই ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির নামের পাশে ব্যর্থতার স্তুুপ। তামিমের বিশ্রামের এই সময় বাংলাদেশ দলে টেস্ট এবং টি- টোয়েন্টিতে পাঁচজন ওপেনার খেলার সুযোগ পান। তাদের কেউ ভাল শুরু এনে দিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে যথাক্রমে ০ ও ৩০ রানে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওপেনিং জুটির সঞ্চয় এমন- ২৬, ০, ৪৯ ও ৯। ভরসা করার মতো অবস্থা কোথায়? এই পাঁচ ওপেনিং ব্যাটসম্যানের কেউ নিদেনপক্ষে একটা হাফসেঞ্চুরিও পাননি।

শুরুতে মুখ থুবড়ে পড়ায় বাংলাদেশের ইনিংসের স্বাস্থ্য আর সবল হয়নি। উপায়ন্তর না দেখে তামিম ইকবালের কাছেই ফের সমস্যার সমাধানের জন্য ছুটে গিয়েছিলেন নির্বাচকরা।

সাদমান-সৌম্য, লিটন-সাদমান, সৌম্য-লিটন, লিটন-মুশফিক, লিটন-নাজমুল, লিটন-নাজমুল।  টেস্টের দুই ইনিংস এবং পেছনের চার টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির নাম। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের শেষ দুটি টি- টোয়েন্টিতে একই ওপেনিং জুটি নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। বাকি সব ইনিংসে অদল-বদল।

মঙ্গলবারের ফাইনালেও ওপেনিং জুটিতে আরেকদফা বদল দেখলে আপনি খুব বেশি বিস্মিত হবেন না। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়ে যেতে পারে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ফাইনালে!

সিরিজের ষষ্ঠ বাংলাদেশি ওপেনিং জুটি তাহলে কী লিটন-নাঈম?

ট্যাগ: bdnewshour24 তামিম