banglanewspaper

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে আহসানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহেদ আরা লিপি‘র বিরুদ্ধে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দ এলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ভূল বুঝিয়ে ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাত করেন।

চলতি অর্থ বছরে বিদ্যালয়টিতে সংস্কার ও মেরামতের জন্য একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার, স্লিপের ষাট হাজার এবং ঘর সংস্কার বাবদ চল্লিশ হাজারসহ মোট দুইলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব টাকা একটি ছোট ঘরের টিন এবং মেঝের ফাটাফুটা বন্ধ আর কোন মতে রংয়ের কাজ শেষ করে সব টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, সেখানে দেয়াল ও মেঝের ফাটাফুটা বন্ধ করতে ৫৯ বস্তা সিমেন্ট এবং ছোট একটি ঘরেরচালা, তার বারান্দার মেরামতের জন্য ৫ বান্ডিল টিন ও ভেতর বাহির রং এর ভাউচার করা হয়েছে। এ যেন “কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই” এমন অবস্থা।

প্রকৃত অর্থে স্লিপ ফান্ডের টাকা শিক্ষার্থীর ম্বার্থে কিংবা শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণ কেনার কথা থাকলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি। প্রতি বছর প্রায় একই উপকরণ ক্রয় দেখিয়ে বা একটু অদল বদল করে ভুয়া ভাউচার দাখিল করে আতœসাৎ করেন। এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও তার কোন কাগজ পত্র দেখাকে পারেননি তিনি।

এব্যাপারে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত তিনি নিয়মিত স্কুল করেন না। আর গত কয়েক অর্থ বছরে বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র সংস্কার ও স্লিপের বরাদ্দের লাখ লাখ পেলেও তার দৃশ্যমান কোন কাজ করা হয়নি। তিনি প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর কোন দিন মা সমাবেশ হয়েছেন কিনা কেউ বলতে পারেন না । এমনকি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযথ পালন করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ে ২টি ল্যাপটপ থাকলেও একটি তিনি বাড়ীতে ব্যবহার করেন। এভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্তা না করেই চলছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা সাহেদ আরা লিপি।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, এমতাবস্থায় এলাকাবাসী, অভিভাবকরাসহ সচেতন মহল বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষিকা সাহেদ আরা লিপি বলেন, আতœসাৎ এর বিষয়টি ভিত্তিহীন। বরাদ্দের টাকা বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই যেসব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অপর একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাউচার গুলোর অনিয়ন থাকলে তবে তা ইঞ্জিনিয়ার অফিস যেভাবে করতে বলেছে আমি সেভাবে করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। আমার নিকট কেহ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কাজের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বরাদ্দের আশি শতাংশ করা হলে কাহারো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 আত্রাই