banglanewspaper

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

পেনশনভোগী, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরীদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের সময় চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ প্রদান না করলে হয়রানী করে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আব্দুর রহমান আজাদ মনোহরদী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যোগদান করার পর থেকে তার কার্যালয়ে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঘুষ দিতে না চাওয়ায় সুবিধাভোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার নিত্য দিনের ঘটনা। ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে ফাইল সই না করে নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন এই কর্মকর্তা।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই কর্মকর্তার বিচার দাবি করে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন দপ্তরি কাম প্রহরী।

এসব দপ্তরী কাম প্রহরীদের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপে নিয়োগ পাওয়া মনোহরদী উপজেলার ৩৪জন দপ্তরী কাম প্রহরীদের ৩৬ মাসের বকেয়া বেতনের অর্থ ছাড় হয় গত জুলাই মাসে। এই অর্থ উত্তোলন করতে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ দপ্তরিদের কাছে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এসময় তারা বকেয়া বেতন পেয়ে ঘুষের টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানায়।

পরবর্তীতে তারা ঘুষের টাকা পরিশোধ করেনি। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষিপ্ত হন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ। সম্প্রতি দপ্তরিরা তাদের আগষ্ট মাসের বেতনের অর্থ ছাড় করাতে গেলে ফাইল আটকে দেন তিনি। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেতন দেওয়া যাবে না বলে তাদেরকে জানানো হয়। বেতনের অর্থ ছাড় করাতে গত কয়েকদিন ধরে কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন দপ্তরীরা।

কিন্তু কিছুতেই রাজি হননি তিনি। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী দপ্তরিরা।

মইশাকান্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী জামিল মিয়া বলেন, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ স্যারের দাবীকৃত দেড় লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় আমাদের বেতন আটকে দিয়েছেন। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে আমরা এর দ্রুত সুরাহা চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে আমার ভাতা প্রাপ্তির ফাইল আটকে রেখেছেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ বলেন, দপ্তরীদের কাছে আমি কখনো ঘুষ দাবি করিনি।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, দপ্তরিদের বেতন না দেওয়ার কোন কারণ আমি দেখি না। তাদের অভিযোগ পেয়ে ওই কর্মকর্তাকে ডেকে দ্রুত বেতনের অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া অন্য যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 মনোহরদী