banglanewspaper

সরকার ওষুধের মূল্য ও সড়ক পরিবহনে ভাড়া নির্ধারনসহ কয়েকটি স্থানে ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেও পেয়াজ, চাল, ডাল বা পরিবহন যা-ই সংকট হোক না কেন, সরকার বা সংস্লিষ্ঠ সরকারী কর্তৃপক্ষ তখনই ঐ খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক সভা করে ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

অথচ যাদের জন্য সরকারে এই আয়োজন সেই ভোক্তাদেরকে ঐ সভাতে আমন্ত্রণ জানানো বা তাদের মতামত গ্রহন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করার কারনে সরকারের ব্যবসা-বানিজ্যে নীতি প্রনয়ণে ব্যবসায়ীদের প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে। আর এ সুযোগে গুটিকয়েতব্যবসায়ী পুরো ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও সরকার ও ব্যবসায়ীরা বারবার বলছেন দেশে কোন সিন্ডিকেট নাই।

অতিসম্প্রতি ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অভিযানে দেখা গেলো টেন্ডারসহ অনেক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হাতেগুনা কয়েকজন। অন্যদিকে সিটিকর্পোরেশন কোরবানীর পশুর হাট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভোগ্যপণ্যের বাজার ইজারা দিচ্ছেন। সে বাজার ইজারা প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহন নেই।

সে কারনে বাজার ইজারাদার যে কোন ভাবে ব্যবসা করা, বাজারে ভোক্তাদের নিরাপদে বাজার করা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ইজারামূল্য আদায় ও লাভে ব্যস্ত হচ্ছেন। যদি ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহন নিশ্চিত হলে বাজারগুলি ভোক্তাবান্ধব ও বাজারের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়গুলির মান নিশ্চিত হতো।

তাই বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে ব্যবসায়ী ও সরকারী কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের সমঅংশগ্রহন নিশ্চিত না হলে দেশে ন্যায্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন হবে না বলে মত প্রকাশ করা হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং নগরীর খুলসীতে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ক্যাব’র পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসী সভায় উপরোক্ত মতামত ব্যস্ত করা হয়।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক জসিমের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেসী সভায় বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান, ক্যাব পাঁচলাইশের সায়মা হক, সেলিম জাহ্ঙ্গাীর, সেলিম সাজ্জাদ, ক্যাব নেতা নবুয়ত আরা সিদ্ধিকী, এজিও ফুডের ওয়াহিুদর রহমান, ক্ষুদ্র কামারী মোসলেম উদ্দীন, ফিড বিক্রেতা মোহাম্মদ যোবাইর ও ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর তাজমুন নাহার হামিদ, শম্পা কে নাহার, জেড এইচ শিহাব প্রমুখ।

সভায় বলা হয় বায়ো সিকিউরিটি সমৃদ্ধ(কন্ট্রোল শেড) খামারে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করলে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আর যত্রতত্র, অপরিস্কার, অপরিছন্ন স্থানে মুরগি জবাই করে ভোক্তার কাছে মুরগি সরবরাহ করার কারনে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সে কারনে বিভিন্ন রোগ জীবানু সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা থাকে। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পেতে হলে ফ্রোজেন (প্রক্রিয়াজাতকৃত) মুরগির বিকল্প নেই।

আবার সুপারশপ গুলিও তাদের ভেন্ডরদের মাধ্যমে যে সমস্ত উৎস থেকে মুরগি কিনে থাকেন, তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত কিনা তা জানা অনেক জায়গায় সম্ভব হচ্ছে না। তাই জনস্বার্থে ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগির মাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে উৎস স্থল মুরগির খামার থেকে গৃহিনীর রান্নায় পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের অনুসরনীয় নিয়মাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।

তাই সুপার শপগুলিতে বায়োসিকিউরিটিযুক্ত, প্রাণী সম্পদ অফিসের সনদপ্রাপ্ত, যথাযথ মান পরীক্ষা নিশ্চিত করে বাজারজাতকৃত মুরগি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ড্রেসড(প্রক্রিয়াজাতকৃত) ব্রয়লার মুরগি বাজারজাতকরণ জনপ্রিয় করতে হবে। এ লক্ষে চট্টগ্রামে অবস্থানরত সুপারশপ ও আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মুরগি বাজারজাতকরণে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তারই অংশহিসাবে মুরগির উৎসস্থল বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিতকারী ও যথাযথ মান নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ মান নিশ্চিত, হালাল উপায়ে জবাই ও অন্যান্য কার্যক্রম বিষয়ে সম্যক ধারনা লাভের জন্য খামার পরিদর্শনের জন্য প্রাণী সম্পদ অফিস, জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর ও ক্যাব প্রতিনিধি কর্তৃক যৌথ পরির্দশন, হালাল উপায়ে জবাই ও যথাযথ মান অনুসরণের মাধ্যমে সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা, ভোক্তা পর্যায়ে ড্রেসড(প্রক্রিয়াজাতকৃত) ব্রয়লার মুরগি সরবরাহ কালে প্রাণিসম্পদ ল্যাবে মুরগির মান পুনঃ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ট্যাগ: bdnewshour24 পোল্ট্রি সেক্টর