banglanewspaper

ফরহাদ খান, নড়াইল: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের ৯ ভাইবোনকে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মভাতা প্রদান করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলা গেট এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের ভাই শেখ সাহিদুর রহমান স্বাধীন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে নড়াইলের কুমড়ি গ্রামে নকশালদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আমার ভাই মোশারেফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং- ২০৭২ এবং মুক্তিবার্তা (লাল বই) নং-০৪০৭০২০৪১৪। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের নামে সরকার রাষ্ট্রীয় সম্মানির টাকা বরাদ্দ করে। বিধি মোতাবেক ওই টাকা আমার বাবা আব্দুর রশিদ শেখ গ্রহণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর আমার মা সকিনা খাতুন ওই সম্মানি ভাতা পেয়ে আসছিলেন। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট মায়ের মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী আমার বড় বোন বেবী খাতুন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের ক্ষমতা পান এবং এই ভাতা সব ভাইবোনদের মাঝে সমবন্টন করে দিয়ে আসছিলেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের প্রথমদিকে সরকার মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মভাতা ঘোষণা দিলে আমার সেজো ভাই শেখ মশিয়ার রহমান অপকৌশলে অন্য আট ভাইবোনকে বাদ দিয়ে নিজের নামে ওই ভাতা প্রাপ্ত হন। এই প্রজন্মভাতা মাসে ৩০ হাজার টাকা করে তিন মাস অন্তর ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। 

শেখ মশিয়ার রহমান আমাদের আট ভাইবোনের স্বাক্ষর জালিয়াতির করে লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে প্রজন্মভাতা উত্তোলনের একক দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এই প্রত্যয়ন ও অ্যাফিডেভিট (ক্ষমতাপত্র) পত্র মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেন। এরপর শহীদ মোশারেফ হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্মানির এক লাখ ১৩ হাজার টাকা গত জুলাই মাসে মশিয়ার রহমান উত্তোলন করেন। এক্ষেত্রে মশিয়ার রহমান আট ভাইবোনকে বঞ্চিত করেছেন। এ পরিস্থিতিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের রাষ্ট্রীয় সম্মানির টাকা মশিয়ার রহমানের নামে বরাদ্দ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি করছি।  

আমাদের দাবি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্মানির প্রজন্মভাতা সেজো ভাই মশিয়ার রহমানের নামে একক ভাবে বরাদ্দ না করে সব ভাইবোনের নামে বরাদ্দ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে গত ৩ জুলাই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, পরিচালক (কল্যাণ) বরাবর আবেদন করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেনের বোন বেবী খাতুন, সুফিয়া বেগম, লিলি রহমান, নাসিমা বেগম, জেসমিন বেগম, ভাই শেখ আব্দুর শুকুর, শেখ সাহিদুর রহমান স্বাধীনসহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ফজলার রহমান, মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বিশ্বাস প্রমুখ।

ট্যাগ: bdnewshour24 নড়াইল