banglanewspaper

দশ দিন আগে থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তাকে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ বলেও কোনো কোনো গণমাধ্যমে বিশেষায়িত করা হচ্ছে। তিনি যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে চলছে কানাঘুষা। এই ধারা চলছে যুবলীগের দুই নেতা খালেদ মাহমুদ চৌধুরী ও জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর থেকে। অভিযানের শুরুর দিন থেকে শত শত নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট।

গতকাল একটি দৈনিকে সম্রাট গ্রেপ্তার হয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে গুঞ্জন ডালপালা ছড়ায়। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দার কেউ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। অন্যদিকে সম্রাটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্পষ্ট কিছু বলেননি। গতকাল সম্রাটের আটক সত্যতা জানতে চাইলে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘দেখবেন, আপনারা খুব শিগগিরই দেখবেন। সম্রাট হোক যেই হোক অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনব। আমি এটা এখনো বলছি, সম্রাট বলে কথা না যে কেউ আইনের আওতায় আসবে। আপনারা সময় হলেই দেখবেন।’

এই বক্তব্যের পর ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র। অনেকে বলছেন, সম্রাটের আটক করা হয়েছে বলেই হয়তো মন্ত্রী এমন কথা বলেছেন। অন্যদিকে গণমাধ্যমের খবর বলছে, গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছেন সম্রাট। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের গ্রীণ সিগনাল পেলে তাকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ‘এই বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কিছু হলে জানতে পারবেন।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। মতিঝিল, আরামবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগানসহ বেশ কিছু ক্লাবে ও বারে অভিযান চালানো হয়। এতে অবৈধ ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, নগদ টাকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব ও পুলিশ। এ ছাড়াও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীমকে তার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, অস্ত্র ও মদসহ আটক করা হয়। এরপরই আলোচনায় আসে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে ক্যাসিনো তথা জুয়ার আসরের সঙ্গে স¤্রাট জড়িত। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা তাকে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ বলেও অভিহিত করেছেন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ আছে।

এসব কারণে ইতিমধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ। গত রবিবার তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে সম্রাট দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্রাটের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের কয়েকটি সংস্থা। আর তাকে জড়িয়ে ক্যাসিনো বিষয়ক তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া খালেদ ও জিকে শামীমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সম্রাটের ব্যাংক হিসেব জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন শঙ্কায় কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশনে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে টানা ৬ দিন অবস্থান করেছিলেন সম্রাট ।  সেখানে রাতদিন পাহারায় ছিলেন কয়েকশ যুবলীগ নেতাকর্মী।  তবে গত রবিবার গোপনে সেখান থেকে বের হয়ে তিনি বনানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় চলে যান বলে শোনা যায়। সেখান থেকেই  ‘গোয়েন্দা সংস্থা’ তাকে আটক করে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের শুরু থেকে স¤্রাট নজরদারিতে ছিলেন। পরিস্থিতি টের পেয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 সম্রাট