banglanewspaper

অফিস থেকে ফেরার পথে ক্যাফেতে চা পান করতে নেমেছিলেন নাথালি টুফেনকজি। গরম পানিতে টি ব্যাগ চুবিয়ে চুমুক নিতেই কেন যেন মনে হলো এই টি ব্যাগগুলো যথেষ্ট ক্ষতিকর। তিনি মনে করলেন, ওই টি ব্যাগে অসংখ্য প্লাস্টিকের কণা রয়েছে এবং এটা মারাত্মক। তখন ঠিক করেন যে, তিনি বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা করবেন।

যা ভাবা, তাই কাজ। তিনি তার ছাত্র লারা হার্নান্দেজকে স্থানীয় দোকান থেকে কিছু টি ব্যাগ কিনে তার ল্যাবে নিয়ে আসতে বলেন। দেখা যায়, টুফেনকজির আশঙ্কা একদম ঠিক ছিল। ওই টি ব্যাগগুলো থেকে গরম চায়ের মধ্যে অসংখ্য প্লাস্টিকের কণা প্রবেশ করছিল।

তবে ওই টি ব্যাগগুলো কাগজের তৈরি ছিল না। ওগুলো ছিল প্লাস্টিকের তৈরি। প্লাস্টিকের হওয়ার কারণে গরম পানিতে এর ক্ষুদ্র কণা মিশে যায়।

কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক বিভাগের অধ্যাপক টুফেনকজি। তিনি প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, তিনি ভেবেছিলেন, ফুটন্ত পানিতে প্লাস্টিকের কোনো জিনিস ডুবিয়ে সেটা পান করা খুব একটা ভালো বিষয় নয়। এরপর শুরু করেন গবেষণা। গবেষণা করেই বেরিয়ে আসে মারাত্মক এই তথ্য।

ছাত্র হার্নান্দেজ, টুফেনকজি এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সহ-গবেষকরা ফুটন্ত পানিতে চার ধরনের প্লাস্টিকের টি ব্যাগ ডুবিয়ে পরীক্ষা করেন এবং দেখতে পান যে একটি ব্যাগই ১১ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ৩ বিলিয়ন ন্যানোপ্লাস্টিক কণা ছড়াচ্ছে। গবেষকরা একটি বৈদ্যুতিন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে দেখতে পান এটি।

তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদন চলতি মাসে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়।

বেশ কিছু দোকানে কাগজের টি ব্যাগের পরিবর্তে প্লাস্টিকের টি ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এজন্য এ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন হতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে এই টি ব্যাগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্যের ওপরে প্রভাব কেমন তা এখনো জানাতে পারেননি তারা। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন, এগুলো যথেষ্ট ক্ষতিকারক। যদিও বিশ্বজুড়ে মানুষ অজান্তেই প্রচুর পরিমাণে টি ব্যাগ ব্যবহার করে চা পান করেন।

তাই গবেষকদের পরামর্শ, দোকান থেকে টি ব্যাগ কেনার আগে যাচাই করে নিতে হবে সেগুলো প্লাস্টিকের তৈরি না কি কাগজের তৈরি!

ট্যাগ: bdnewshour24 টি-ব্যাগ